সিলেটে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার তেল-গ্যাস

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৮ এএম

সিলেটে আবিষ্কৃত একটি নতুন গ্যাসকূপের (সিলেট ১০) উপরিভাগে (প্রথম স্তর) তেলের সন্ধান মিলেছে। পরীক্ষামূলকভাবে এতে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেলের প্রবাহ পাওয়া গেছে। প্রকৃত মজুদ কত তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে চার থেকে পাঁচ মাস। হরিপুরের সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ওই কূপে তেল ছাড়াও অন্য তিনটি স্তরে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তেল ও গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘প্রথম দিন ২ ঘণ্টায় ৭০ ব্যারেল তেল উঠেছে। আপাতত কূপ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকৃত মজুদ জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ২০ বছর এখান থেকে সুফল পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে উত্তোলিত তেল পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলেটের ১০ নম্বর কূপে ২ হাজার ৫৭৬ মিটার গভীরতায় ৪টি স্তরে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। সবচেয়ে বেশি গভীরতায় চতুর্থ স্তরটিতে (২৫৪০-২৫৫০ মিটার) পরীক্ষা করে ৩২৫০ পিএসআই চাপে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া গেছে। সেখানে মোট মজুদের পরিমাণ ৪৩ থেকে ১০০ বিলিয়ন ঘনফুট। তৃতীয় স্তরে (২৪৬০ থেকে ২৪৭৫ মিটার) আরও একটি ভালো গ্যাসের স্তর পাওয়া গেছে, সেখানে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরেও (২২৯০ থেকে ২৩২০ মিটার) গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রথম স্তরে (১৩৯৭-১৪৪৫ মিটার গভীরতায়) আরও একটি জোন রয়েছে, যেখানে ৮ ডিসেম্বর তেলের উপস্থিতি জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে এই তেলের এপিআই গ্রাভিটি ২৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি। ১৯৮৬ সালে হরিপুরে প্রথম তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। এটি পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ওই সময় এপিআই গ্রাভিটি ছিল ২৭ ডিগ্রি।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘এখান থেকে দিনে ৫০০-৬০০ ব্যারেল তেল পাওয়া সম্ভব। সেখানে ৪৩ দশমিক ৬ থেকে ১০৬ বিলিয়ন ঘন মিটার গ্যাসের মজুদও মিলেছে। ২৫৪০ এবং ২৪৬০ মিটার গভীরতায় একযোগে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর তেল-গ্যাস উৎপাদন করা যাবে। প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন করা হলে ১৫ বছরের বেশি সময় গ্যাস উৎপাদন করা যাবে। বর্তমান বাজার দরে এই তেল-গ্যাসের গড় মূল্য প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা।’

কূপটি যথাসময়ে খনন করার সহযোগিতার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার।

তিনি জানান, পরীক্ষাশেষে পুনর্মূল্যায়নে সিলেট-১০ নম্বর কূপে ২০০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস হতে পারে, যার মূল্য প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে তেলের মজুদ প্রায় ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল। এই তেলের বর্তমান বাজার দর ৭ হাজার কোটি টাকা।’

গত ২৪ জুন সিলেট-১০-এ অনুসন্ধান শুরুর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেখানে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। গত ২২ নভেম্বর সিলেটের কৈলাসটিলায় পরিত্যক্ত ২ নম্বর কূপ থেকে উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়। সেখান থেকে দিনে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেট-১০ একটা অনুসন্ধান কূপ। এখানকার গ্যাস সরবরাহের জন্য আমরা ইতিমধ্যে পাইপলাইন নির্মাণ করতে দরপত্র আহ্বান করেছি। দরপত্র-প্রক্রিয়া শেষে পাইপলাইন নির্মাণে প্রায় ৬ মাস সময় লাগবে। এরপর গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাবে। ১৫ দিনের মধ্যে রশিদপুর-২ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার (সংস্কার) শুরু করব। সেখানেও ভালো গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। রশিদপুরে আগে থেকেই পাইপলাইন প্রস্তুত আছে। ফলে সেখানকার গ্যাস সিলেট-১০ নম্বর কূপের গ্যাসের আগেই জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাবে আশা করছি।’

গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের নিজস্ব অর্থায়নে সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপের খননকাজে ব্যয় হবে প্রায় ২০২ কোটি টাকা। এ জন্য গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট গ্যাসফিল্ডের সঙ্গে চীনের সিনোপ্যাক ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম সার্ভিস করপোরেশনের একটি চুক্তি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত