জম্মু-কাশ্মীর মৃত্যুদণ্ড, বিজেপির জয়

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৩১ এএম

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে এ রায়কে বড় জয় হিসেবে দেখছে মোদি সরকার। অবশ্য সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ অঞ্চলটির রাজনীতিকরা। তাদের অভিযোগ, জনগণের অধিকার হরণ করা হলো। আর জয় পেল বিজেপির বহু দিনের অভিসন্ধি।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর অনেকটাই রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে ছিল জম্মু-কাশ্মীর। কিন্তু সেখানকার বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই ফের অঞ্চলটিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে। চলছে বিতর্ক, কথার লড়াই।

দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিরোধিতা করে আসছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। এমনকি এই অনুচ্ছেদ বিলোপ তাদের ২০১৯ সালের নির্বাচনী তফসিলের অংশও ছিল। আর তাই আসন্ন নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের এ রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিচ্ছে দলটি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রায়কে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ার প্রচেষ্টায় আশার আলো, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আমাদের একতাবদ্ধ, ঐক্যের ভারতকে আরও মজবুত করেছেন।’ বিজেপিপ্রধান জেপি নাড্ডা বলেছেন, শীর্ষ আদালতে ৩৭০ ধারার বিষয়ে যে রায় দেওয়া হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি তাকে স্বাগত জানায়।

তবে রায়টিকে হতাশজনক আখ্যা দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা। জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ হতাশ। ৩৭০ অনুচ্ছেদ ঐতিহাসিকভাবেই এই অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আজকের এই দিনে পৌঁছাতে বিজেপির বহু বছর লেগেছে। আমরাও দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সামাজিকমাধ্যম এক্সে রায় দানের বিষয়ে লিখেছেন, হতাশ হয়েছি কিন্তু হার মানিনি। লড়াই জারি থাকবে। আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, এই রায় জম্মু-কাশ্মীরের জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো। ভারতের মূল চেতনার জন্যও এই রায় মৃত্যুদণ্ডের মতোই।

অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংয়ের ছেলে এবং কংগ্রেস নেতা করণ সিং এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘এখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, যা কিছু ঘটেছে তা সাংবিধানিকভাবে বৈধ... আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অনুরোধ করছি যেন শিগগিরই রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।’

এদিকে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের তুমুল সমালোচনা করেছে পাকিস্তান সরকারও। পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলিল আব্বাস জিলানি বলেন, জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় পাকিস্তান স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। কাশ্মীরের জনগণ এবং ইসলামাবাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই বিতর্কিত ভূখণ্ডের মর্যাদা নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নেই। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসিকে অসংগতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত