খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত) অংশের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের চার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন। গত সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অনিলপাড়া নামক গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়।
নিহতরা হলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ পিসিপির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুনীল ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা লিটন চাকমা ও ইউপিডিএফ সদস্য রুহিন বিকাশ ত্রিপুরা।
নিহতদের মধ্যে বিপুল চাকমার বাড়ি চেঙ্গী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করল্যাছড়ি বুদ্ধধন পাড়ায়, সুনীল ত্রিপুরার বাড়ি মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের সুরেন্দ্র রোয়াজা হেডম্যানপাড়ায়, লিটন চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের দ্রোনচার্য্য কার্বারিপাড়ায়, রুহিন বিকাশ ত্রিপুরার বাড়ি পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়নের পদ্মিনীপাড়ায়।
এ ঘটনার জন্য গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন ইউপিডিএফ নেতা অংগ্য মারমা। তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার এলাকায় যুব সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সেজন্যই তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। নব্যমুখোশধারী গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের সভাপতি শ্যামল চাকমা বলেছেন, পাহাড়ে বেশ কয়েকটি সংগঠন রয়েছে, তারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এর সঙ্গে আমার সংগঠন জড়িত নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কাজে বিপুল চাকমাসহ সাত নেতাকর্মী গত সোমবার লোগাঙ এলাকায় যান। তারা রাতে অনিলপাড়া গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল ওই বাড়িতে হানা দিয়ে চারজনকে গুলি হত্যা করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। গোলাগুলির ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় পানছড়ি থানার ওসি ও খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মুক্তার ধরকে মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুুলিশ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসে।
এদিকে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, হরতাল, সড়ক অবরোধ, বাজার বয়কটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিকো ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি কণিকা দেওয়ান, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংকন চাকমা এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংগঠনটির নেতারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, খুন-গুম করে জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমন করা যায় না। অতীতে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করার পরও ইউপিডিএফকে আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।
কর্মসূচির মধ্যে ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর প্রতিবাদ সমাবেশ ও শোকসভা। বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন, ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত পানছড়ি বাজার বয়কট, ১৭ ডিসেম্বর পানছড়ি উপজেলাব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট, ১৮ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলাব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ।
