মাথাব্যথা ও ফিজিও চিকিৎসা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০১ পিএম

মাথাব্যথা খুব সাধারণ সমস্যা। মাথাব্যথা বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন টেনশন হেডেক, ইনফ্লাম্যাশন হেডেক, ট্রাকশন হেডেক, ভাসকুলার হেডেক (মাইগ্রেন, ক্লাস্টার, টক্সিক) ও সার্ভিকোজেনিক হেডেক অন্যতম। এর মধ্যে ১৫-২০% সার্ভিকোজেনিক হেডেক বা সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথায় ভুগেন।

সার্ভিকোজেনিক হেডেক এমন এক মাথাব্যথা, যার উৎপত্তি ঘাড় থেকে। এ ক্ষেত্রে ঘাড়ের মাংসপেশি যেমন ট্রাপিজিয়াস মাসেলের ওপরের অংশ, লিভেটর স্ক্যাপুলি ও অক্সিপিটালিস মাসেল খাট হয় ও ঘাড়ের ফ্ল্যাক্সর গ্রুপের মাংসপেশি যেমন লঙ্গাস ক্যাপিটাস ও লঙ্গাস কোলাই দুর্বল হয়। ঘাড়ের অন্যান্য স্ট্রাকচার যেমন আপার সার্ভাইক্যাল ফ্যাসেট জয়েন্ট, আপার সার্ভাইক্যাল মাসেল, সি২-৩ ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক, কেরোটিড আর্টারি, ডুরামেটার, আপার স্পাইনাল কর্ড, ঘাড়ের পেছনে ক্রেনিয়াল ফোছা এ ধরনের মাথাব্যথা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়াও উইফ্লাস ইনজুরি, ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত স্ট্রেস, অসঠিক ভঙ্গিতে পড়াশোনা, কম্পিউটার ব্যবহার, মোবাইল ফোন ব্যবহার, অফিসওয়ার্ক ও সামনের দিকে ঘাড় বাঁকা করে দীর্ঘ সময় কাজ করা থেকেও সার্ভিকো জেনিক হেডেক হতে পারে।

কেন হয়

শরীরের ফ্যাট ভেঙে যায় এবং ফ্যাট থেকে টক্সিন বের হয়। উক্ত টক্সিন আমাদের ঘাড় ও কাঁধের উপরিভাগের মাংসপেশি শক্ত করে। ফলে মাথাব্যথা তৈরি হয়। এ ছাড়াও পানিশূন্যতার কারণেও মাথাব্যথা হয়। সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথার রোগীর, ঘাড়ের ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন করলে তার আপার ক্রস সিনড্রম পাওয়া যায়। এ ছাড়াও রোগীর ফরওয়ার্ড হেড পোশ্চার থাকে ও রোগীর জয়েন্ট মবিলিটি কমে যায়। ঘাড়ের ও কাঁধের বিভিন্ন মাংসপেশি শক্ত বা টাইট হয়ে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে অনেকের চোখ, কপাল, কানের পাশে ও থুতনিতে ব্যথা হয়ে থাকে। নারীরা পুরুষের চেয়ে ৪ গুণ বেশি এই মাথাব্যথায় ভোগেন।

চিকিৎসা

মাথাব্যথার ফিজিও ধরন অনুযায়ী চিন টাক এক্সারসাইজ, ৬টি পয়েন্টে ডিপফ্রিকশন, ঘাড়ের সফট টিস্যু মোবালাইজেশন, স্ট্রেসিং, স্ট্রেন্দেনিং, মায়োফেসিয়াল রিলিজ ও পোশ্চারাল কারেকশন করতে হয়। তারপর তার মাসেল কন্ট্রোল এক্সারসাইজ, মাসেলের এন্ডিওরেন্স এক্সারসাইজও রয়েছে। তার সঙ্গে লো-লেভেল লেজার থেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, হট বা কোল্ড থেরাপি (অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী) কারও কারও প্রয়োজন হয়।

খাবার

খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে যেমন আদার রস খালিপেটে দিনপ্রতি ১ চা-চামচ (যদি ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন বা ব্লাড প্রেসার বেশি না থাকে।  আনারসের মাঝের অংশ, কালো আঙ্গুর/জাম, পাকা পেঁপে, পাকা কলা, পাতাকপি, গাজর, টমেটো খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। প্রচুর পানি পান করুন। ব্যথা থাকলে লবণ, সাদা আটা, চাল, ব্রেড, লাল এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস, দুধের তৈরি খাবার ও চিনি বাদ দিতে হবে। ধূমপান বর্জন করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত