বাংলাদেশ বিষয়ে মিলার

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আগে আলোচনা করে না যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৫ এএম

নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নেওয়া বা ঘোষণা করার আগে সেটা নিয়ে আলোচনা করা যুক্তরাষ্ট্রের রীতি নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। গত বুধবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা জানান।

নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে জানতে চান প্রশ্নকারী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন। আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো নতুন খবর আছে কি? জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘আমার কাছে আজ ঘোষণা করার মতো নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, এমন পদক্ষেপ নেওয়া বা ঘোষণার আগে আমরা সেগুলো নিয়ে (প্রকাশ্যে) আলোচনা করি না।’

আরেক সাংবাদিক বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ৬ সংগঠনের উদ্বেগ প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে পুরো বাংলাদেশকে কারাগারে রূপান্তরিত করেছে ক্ষমতাসীন সরকার। ১৮ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা ছাড়া সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন এবং তার সহকারী দাবি করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করে ফেলবেন। নতুন সরকার গঠন করার পর সেই সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানাবে বলেও তারা দাবি করেছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরে মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে নির্যাতনের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা সবপক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং সহিংসতা এড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি, যেখানে সবাই সহিংসতা বা প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই প্রাক-নির্বাচন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অবাধে অংশগ্রহণ করতে পারে।’

ম্যাথু মিলার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারায় ভিন্নমতের কথা বলার স্বাধীনতা, সংলাপ এবং আলোচনার মাধ্যমে উপকৃত হওয়া যায়।’

পরে ওই সাংবাদিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে ভুয়া সংবাদ এবং ভিডিও প্রচারের বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ এবং ভুয়া ভিডিও বানিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছে। এই রিপোর্টে সামনে আসা অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অবস্থান কী?

জবাবে ম্যাথু মিলার বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সম্পর্কিত ওই সংবাদটি দেখেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ধরনের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত