যেকোনো বিবেচনায় সিনেপর্দার অন্যতম আকাক্সিক্ষত মুখ তিনি। হাজারবারেরও বেশি স্ক্রিনে দেখা গেছ তাকে। এই মানুষটিকে দেখে কখনো ক্লান্ত হয়নি দর্শক বা তার গ্রহণযোগ্যতার রঙ ও ফিকে হয়নি। ভারতীয় সিনেমায় অবদানের জন্য পেয়েছেন পদ্মশ্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেট। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বে সর্বাধিক সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তার নাম উঠেছে দ্য গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
তিনি ব্রহ্মানন্দম। মাছের জন্য জল যেমন অপরিহার্য, তেমনই তামিল-তেলুগু বা দক্ষিণী সিনেমার জন্য তিনি।
পেশায় শিক্ষক ছিলেন। অভিনয় করবেন, এমনটা ভাবেননি কখনই। তবে ছোটবেলা থেকে মিমিক্রি করতেন। আর এই মিমিক্রিই তাকে টেনে আনে অভিনয়ে। শিক্ষক থেকে অভিনেতা ব্রহ্মানন্দমের দীর্ঘ পথচলার চুম্বক অংশ দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য।
১৯৫৬ সালে অন্ধ্র প্রদেশের এক অজ পাড়াগাঁয়ে জন্ম। বাবা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আট ভাইবোনের একজন ছিলেন কান্নেগান্তি ব্রহ্মানন্দম। শিক্ষকতার পাশাপাশি মাঝে মাঝে থিয়েটারে যেতেন তিনি। সেখান থেকেই পরিচিত একজনের হাত ধরে চলে যান ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দূরদর্শনের দরজায়। ১৯৮৫ সালে দূরদর্শন তেলুগুতে অভিষেক ঘটে তার। সেখানে ‘পাকাপাকালু’ অনুষ্ঠানে দারুণ পারফরম করেন তিনি, বনে যান দর্শকদের ভীষণ পছন্দের পাত্র। ওই অনুষ্ঠানে তার পারফরমেন্স দেখে তাকে নিজের কমেডি ড্রামা ‘আহা না-পেল্লান্তা’ ছবিতে কাস্ট করেন পরিচালক জান্ধিয়ালা। চলচ্চিত্রের ঝলমলে দুনিয়ায় পা রাখলেন গায়ে কাদামাটির গন্ধ লেগে থাকা কান্নেগান্তি ব্রহ্মানন্দম। একই বছর অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে আরও দুটি ছবি মুক্তি পায় তার। আর এই ছবি দুটিতে অভিনেতা হিসেবে তেলুগু দর্শকদের নিজের জাত চিনিয়ে দেন ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির এই সুপার কমেডিয়ান।
তবে কমেডিয়ান হিসেবে তার পাকাপাকি অভিনয় শুরু মূলত নব্বই দশকের শুরু থেকে। উপহার দিতে থাকেন একের পর এক সুপারহিট মুভি। একটা সময় আসে যখন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে বাধ্যতামূলক করে তোলেন তিনি। ১৯৯২ সালে ‘বাবাই হোটেল’ নামে একটি সিনেমায় লিড রোল করেন। আর এই ছবিটি পরিচালনা করেন তাকে প্রথম ব্রেক দেওয়া পরিচালক জান্ধিয়ালা। অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়াদার বাবাই হোটেলের ওপর নির্মিত এই তেলুগু ছবিটি সে সময় দারুণ ব্যবসা সফল হয়। রাম চন্দ্রমূর্তি চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেন সুপার কমেডিয়ান ব্রহ্মানন্দম।
১৯৯৩ সালে প্রথম বড় পুরস্কার পান তিনি। অনেক পুরস্কার আছে তার ঝুলিতে। ২০০৯ সালে পান পদ্মশ্রী। এ ছাড়া নন্দি অ্যাওয়ার্ডস, সিনেমা অ্যাওয়ার্ডস আর সাউথ ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল মুভি অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন অনেকবার। আর হাজারেরও অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তার নাম উঠেছে দ্য গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
ব্যক্তি জীবনে স্ত্রী ও দুই ছেলে আছে তার। শুধু চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ই নয়, আরও অনন্য দুটি গুণ আছে তার। তিনি একজন নামি ভাস্কর্য-শিল্পী এবং স্কেচ ও ড্রইংয়ে তার হাতে আছে জাদু। ৬৭ বছর বয়সী মানুষটি তার ৩৭ বছরের ক্যারিয়ারে এখনো সমান সপ্রতিভ।
ভারতীয় একাধিক ওয়েবসাইট অবলম্বনে
