তিনি একজন বৃহন্নলা। পড়াশোনা করছেন ফ্যাশন ডিজাইনে। ক্যারিয়ার শুরু করতে চান মডেলিং আর ফ্যাশন ডিজাইনিং করে। নিজের স্বপ্ন আর তা বাস্তবায়নের যুদ্ধটা একাই করে চলেছেন। তার নাম ইয়াসিন আহমেদ সকাল। সম্প্রতি একটি বিউটি কনটেস্টে দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন। রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীনের মেকওভারে সকাল হয়ে উঠেছিলেন রাজকন্যা। সেসব কথা জানিয়েছেন মোহসীনা লাইজুকে
সকালকে বিউটি কনটেস্টে দেখে সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীনের মনে হয়েছিল সকাল সবার থেকেই আলাদা। তার সৌন্দর্য ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রকাশ আফরোজা পারভীনকে মুগ্ধ করে। এ প্রসঙ্গে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশে সকালকে দেখে আমার মনে হয়েছে ওর মধ্যে বোল্ডনেস আছে, বিউটি আছে। আর যে নারী সত্তাকে আমরা দেখতে চাই সেই খাঁটি নারীসত্তা আছে সকালের মধ্যে। অথচ সেটা প্রকাশ করা তার জন্য কঠিন। জীবনের যে যুদ্ধ আমরা সবাই করি সেও করে। পাশাপাশি নারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার আলাদা একটা লড়াই তাকে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এটাই আমাকে আকৃষ্ট করেছে। এজন্যই আমি চেয়েছি সকালকে নতুন সকালে রূপান্তর করতে।’সেই ভাবনার ফলে সকালকে ডেকে নিলেন তার বিউটি স্যালনে। চারটি ব্যতিক্রমী লুকে মেকওভার করলেন।
ইয়াসিন আহমেদ সকাল মডেলিং করেন। পাশাপাশি তিনি শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজিতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে কাজ করেছে সকালের অদম্য মনোভাব, সাহস আর ইচ্ছা। এ বছর অনুষ্ঠিত মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ ২০২৩-এ তিনি দ্বিতীয় রানারআপ। এই প্রতিযোগিতা থেকে তার অর্জন আর অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। সেখানেই তাকে চোখে পড়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞ আফরোজার পারভীনের। তিনিই সকালকে নতুন সকালে রূপান্তরের ইচ্ছা পোষণ করেন।
আর সকাল সব সময়ই চেয়েছেন তার ভেতরের নারীসত্তার প্রকাশ করতে। কিন্তু সেটা একটা সময় পর্যন্ত বলা সম্ভব হয়নি। সমাজের অন্যদের বোঝানো যতটা কঠিন, নিজের পরিবারের সদস্যদের বোঝানো তার জন্য কম কঠিন ছিল না। তা সত্ত্বেও হতাশ হননি। অবিচল থেকেছেন সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে। সেই চেষ্টাতেই নতুন রূপে এক সকালকে দেখতে পেয়েছি। এ প্রসঙ্গে আফরোজা পারভীন বলেন, আমাদের এই উদ্যোগকে বলা যেতে পারে নারীত্বের উদযাপন। এক্ষেত্রে আমার নিরীক্ষা করার ইচ্ছা বেশি কাজ করেছে। তিনি আরও বলেন, আমি অবশ্যই মাথায় রেখেছি নারী হয়ে ওঠার পথে সকালের সংগ্রাম ও ঐকান্তিকতা। ফলে সকালকে নতুন রূপে যথার্থ নারী হিসেবে তুলে ধরার কাজটা অনেকখানি সহজ হয়েছে।
আফরোজা পারভীন আরও বলেন, ‘সমাজের সবার ইচ্ছার বাস্তবায়ন না করতে পারলেও একজনের স্বপ্ন কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পেরেছি এটা আমার কাছে অন্যরকম অনুভূতি।
রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন সকালকে চারভাবে সাজিয়েছেন। চারটি লুক তিনি ক্রিয়েট করেছেন। ‘এটাকে বলা যেতে পারে সকালের নারীত্বের উদযাপন। এ ক্ষেত্রে আমার নিরীক্ষা করার ইচ্ছা বেশি কাজ করেছে’ বলেছেন আফরোজা পারভীন। আফরোজা পারভীন আরও বলেন, ‘তবে আমি অবশ্যই মাথায় রেখেছি নারী হয়ে ওঠার পথে সকালের সংগ্রাম ও ঐকান্তিকতা।’ ফলে সকালকে নতুন রূপে যথার্থ নারী হিসেবে তুলে ধরার কাজটা অনেকখানি সহজ হয়েছে।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি সেভাবেই গভীর অভিনিবেশে সকালকে দিয়েছেন এক নতুন রূপ। সাজানোর পর নিজের চেহারা দেখে অভিভূত সকাল। তিনি বলেছেন, ‘আমি না হাসলেও আমার ঠোঁটগুলো হাসছিল। আমাকে মনে হচ্ছিল একজন রাজকন্যা।’ তার ভেতরের নারীত্বকে এত সুন্দর করে প্রকাশ করার জন্য আফরোজা পারভীনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকাল বলেছেন, ‘তার স্পর্শ আমাকে আমার মায়ের স্পর্শ মনে করিয়ে দিয়েছে।’
ছবি দেখার পর যারপরনাই অভিভূত সকাল বলেছেন, যে সকালের স্বপ্ন তিনি ছোটবেলা থেকে দেখেছেন, সেই সকাল তিনি হয়ে উঠতে পেরেছেন আফরোজা পারভীনের কল্যাণে। তার ছোঁয়ায় তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন।
আফরোজা পারভীন বলেন, ‘তাকে সাজাতে গিয়ে আমি সব সময়ই মাথায় রেখেছি তার লড়াইয়ের কথা। এমন আরও অনেকেই আছে, তাদের আমি সাজাতে পারছি না। কিন্তু সকালকে তো পেরেছি। একে সুন্দর করে তোলা, তার ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিও আমি সম্মান জানাতে পারি।’
সকালকে সাজানোর সময় আফরোজা পারভীন অনেকগুলো বিষয় মাথায় রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘এ জন্যই প্রতিটা লুক ক্রিয়েট করার মধ্য দিয়ে সকালের ভেতরের সত্তাকে বের করে আনার চেষ্টা করেছি। সাজানোর সময় ওর উচ্ছ্বাস আমাকে ছুঁয়ে গেছে। আর সাজানোর পর আমার মনে হয়েছে, একটা সুন্দর সকাল কেটেছে। একজনের মনের জায়গাতে পৌঁছতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, সকালের মতো আরও সকালকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনের তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।
মডেল : ইয়াসিন আহমেদ সকাল
ছবি : চিশতি
