১৯৯৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক’ বাংলাদেশের ১০ম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ ২৭ বছরের পথ চলায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় এক আস্থার নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চার বছর মেয়াদি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ দিয়ে শুরু হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন স্থাপত্য, ব্যবসা প্রশাসন, পুরকৌশল ও পরিবেশ প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল, ফার্মেসি, আইন ও ইংরেজি বিভাগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক-এর সব বিভাগের পাঠ্যক্রম বাংলাদেশ সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক অনুমোদিত। একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশন’ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। এই ফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- মানবিক ও সামাজিক উন্নয়ন।
ক্যাম্পাস ও অবস্থান
ইউএপির রয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাস। ৭৪/এ গ্রিন রোড, ফার্মগেট, ঢাকাতে গেলেই এই খোলামেলা আধুনিক শিক্ষায়তনের দেখা মেলে। রাজধানী ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেটে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস হওয়ায় যেকোনো স্থান থেকে সহজে আসা-যাওয়া করতে পারেন শিক্ষার্থীরা।
র্যাকিং-এ ইউএপি
বেসরকারি পর্যায়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক প্রথমবারের মতো ‘কিউ এস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং এশিয়া ২০২৪’-এ স্থান লাভ করেছে। এই র্যাংকিং-এ ইউএপি ৭৫১-৮০০তম স্থান দখল করেছে এবং বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩তম স্থান লাভ করেছে।
স্পেন-ভিত্তিক সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র্যাংকিং ২০২১-এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫ম এবং বাংলাদেশের সব সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯তম স্থান লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৮৩৭তম এবং এশিয়া র্যাংকিংয়ে ৪৫৮তম অবস্থানে রয়েছে।
বিভাগ
বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক-এ আটটি বিষয়ে ভর্তি সুযোগ রয়েছে। ১. স্থাপত্য, ২. ব্যবসায় প্রশাসন, ৩. পুরকৌশল ও পরিবেশ প্রকৌশল, ৪. কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ৫. তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল, ৬. ফার্মেসি, ৭. ইংরেজি, ৮. আইন ও মানবাধিকার
ভর্তি কার্যক্রম
বিষয়ভেদে ভর্তি পরীক্ষা অথবা এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের নির্দিষ্ট দুটি সময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। স্প্রিং সেশন (জানুয়ারি-মার্চ) ও ফল সেশন (আগস্ট-সেপ্টেম্বর)
স্কলারশিপ
শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে এবং প্রতিটি সেমিস্টারে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
এসএসসি ও এইচএসসি’র ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তিতে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ দেওয়া হয় (শুধুমাত্র ১ম সেমিস্টারের জন্য প্রযোজ্য)।
প্রতিটি সেমিস্টারে ফলাফলের ভিত্তিতে ২৫% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
প্রতিটি বিভাগের মোট ৩% শিক্ষার্থীকে টিউশন ফি’তে ১০০% ছাড় দেওয়া হয়। প্রতিটি সেমিস্টারে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’তে উপাচার্যের পক্ষ থেকে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অনুন্নত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বমোট আসনের ৩% করে মোট ৬% সংরক্ষিত এবং টিউশন ফি’তে ১০০% ছাড় দেওয়া হয়।
একই পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রে, ২য় এবং ৩য় শিক্ষার্থীকে টিউশন ফি’তে যথাক্রমে ৬০% ও ১০০% ছাড় দেওয়া হয়।
ক্লাব ও সংগঠনসমূহ
শিক্ষার্থীদের নানাবিধ প্রতিভা বিকাশ এবং চর্চার জন্য ৬০টিরও বেশি ক্লাব ও সংগঠন রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো আইইইই ইউএপি স্টুডেন্ট শাখা, সাংস্কৃতিক ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ইইই প্রজেক্ট ক্লাব, ক্যারিয়ার ক্লাব, আর্টস অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, ফার্মাশিয়া ক্লাব, ভূ-প্রযুক্তি ক্লাব, ব্যবসা ও শিক্ষা ক্লাব, কম্পিউটার ও প্রোগ্রামিং ক্লাব, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবক সার্ভিস ক্লাব, এসিআই ইউএপি স্টডেন্ট শাখা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্রাকচার ক্লাব, শিল্পোদ্যোগ ক্লাব, সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব, ইউএপি ফটোগ্রাফি সোসাইটি, ইউএপি ফিল্ম সোসাইটি, এলএইচআর রেডারস ক্লাব, সামাজিক সচেতনেতা ক্লাব, চলচ্চিত্র ক্লাব।
ল্যাব সুবিধা
শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষাদানের জন্য বিভাগভিত্তিক সব ল্যাব সুবিধা রয়েছে। সার্কিট ল্যাব, ইলেকট্রিক ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, ডিজিটাল ল্যাব, ফিজিক্স ল্যাব, ম্যাটেরিয়ালস ল্যাব, স্ট্রাকচারাল মেকানিক্স এবং ভূমিকম্প ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, হাইড্রোলিক্স ল্যাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস ল্যাব, পরিবহন এবং ট্র্যাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, জিও টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, সারভেইং ইকুইপমেন্ট ল্যাব, কেমিস্ট্রি ল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তি রিসার্চ ল্যাব, ফার্মাসিউটিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি রিসার্চ ল্যাব, ফাইটোকেমিস্ট্রি রিসার্চ ল্যাব।
লাইব্রেরি
বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে রয়েছে সুবিশাল পূর্ণাঙ্গ একটি লাইব্রেরি। যেখানে দেশি-বিদেশি প্রায় ২১,০০০ বই, ৩০,০০০ ই-বুক, এবং ২০,৫০০ ই-জার্নাল রয়েছে। এখান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন বই পড়তে পারে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাইব্রেরি আইডি কার্ডের মাধ্যমে বই বাসায় নিয়ে গিয়েও পড়তে পারে।
অডিটোরিয়াম
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৪০০০ বর্গফুট আয়তনের একটি সুসজ্জিত অডিটোরিয়াম রয়েছে, যেখানে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং আরামদায়কভাবে বসার সুবিধা রয়েছে যা প্রায় ২৮০ শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারে। শিক্ষার্থীরা এবং অনুষদগুলো সেখানে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। মাল্টিপারপাস ব্যবহারের জন্য ২৭০০ বর্গফুট আয়তনের কেন্দ্রীয় একটি হলরুম রয়েছে। এই হলরুম একসঙ্গে বা আলাদা আলাদাভাবে ইনডোর গেমস, সংবাদপত্র পড়া, সব ধরনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক বা অন্য সব অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত হয়।
ক্যাফেটেরিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে সুবিশাল দৃষ্টিনন্দন একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। এখানে সবসময় সুলভমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়।
মসজিদ
বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে একটি মসজিদ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করে থাকেন।
ক্রীড়া
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতি বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে বিভাগসমূহের মধ্যে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টনসহ আরও অনেক ইনডোর এবং আউটডোর গেইমসের আয়োজন করে থাকে। এছাড়াও, জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সব প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে।
সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদালয় এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি রয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের ক্রেডিট ট্রান্সফার, শিক্ষা উপকরণ ও জ্ঞানভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান, যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, ট্রেনিং পরিচালনা, শিক্ষাসংক্রান্ত পরামর্শ সভা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা হয়।
