মিসরের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ৩০তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান। আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন হাফেজ মো. মুতাসিম বিল্লাহ। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তারা ২২ ডিসেম্বর মিসরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
গত শনিবার মিসরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানী কায়রোর ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ সিসির পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন আওকাফ মন্ত্রী শায়খ ড. মুহাম্মদ মুখতার জামআহ। এতে ৪১টি দেশ থেকে ৯৬ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। ছয় ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি আগামীকাল শেষ হবে। এতে সব প্রতিযোগীর জন্য ৮৫ লাখ মিসরীয় পাউন্ড পুরস্কার রয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আওকাফমন্ত্রী শায়খ ড. মুহাম্মদ মুখতার বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও মিসর সরকার বিশ্বের বৃহত্তম এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। মিসরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’
প্রতিযোগিতার প্রথম ক্যাটাগরি হলো তাজবিদ, তাফসির ও অর্থসহ পুরো কোরআন হিফজ। প্রথম তিন বিজয়ী যথাক্রমে ১০ লাখ, ৫ লাখ ও আড়াই লাখ মিসরীয় পাউন্ড পুরস্কার পাবেন।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরি হলো তাজবিদসহ পুরো কোরআন হিফজ। এতে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী অনারবরা অংশ নেবে। প্রথম চার বিজয়ী যথাক্রমে ৫ লাখ, ৪ লাখ ও আড়াই লাখ ও ২ লাখ মিসরীয় পাউন্ড পুরস্কার পাবেন।
তৃতীয় ক্যাটাগরি হলো শব্দের অর্থ বোঝাসহ পুরো কোরআন হিফজ এবং সুরা ইউসুফের তাফসির। এতে অনূর্ধ্ব ১২ বছর বয়সী শিশুরা অংশ নেবে। প্রথম পাঁচ বিজয়ী যথাক্রমে ৪ লাখ, ৩ লাখ, ২ লাখ, দেড় লাখ ও ১ লাখ মিসরীয় পাউন্ড পুরস্কার পাবেন।
চতুর্থ ক্যাটাগরি তাজবিদ, তাফসির ও উদ্দেশ্য বোঝাসহ পুরো কোরআন হিফজ। প্রথম দুই বিজয়ীকে যথাক্রমে ৪ লাখ ও ৩ লাখ মিসরীয় পাউন্ড পুরস্কার দেওয়া হবে। পঞ্চম ক্যাটাগরি হলো অর্থ ও উদ্দেশ্য বোঝাসহ পুরো কোরআন হিফজ। এতে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সীরা অংশ নেবে। এতে প্রথম পাঁচ বিজয়ী যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৩ লাখ, ৩ লাখ, আড়াই লাখ ও ২ লাখ মিসরীয় পাউন্ড পুরস্কার পাবেন।
ষষ্ঠ ক্যাটাগরি হলো অর্থ ও উদ্দেশ্য বোঝাসহ পুরো কোরআন হিফজ। এতে কোরআনের পরিবারগুলো অংশ নেবে। তবে পরিবারে অন্তত তিন বা ততোধিক সদস্য থাকতে হবে। এতে প্রথম চার বিজয়ী পরিবারকে যথাক্রমে ৫ লাখ, ৪ লাখ, ৩ লাখ, ২ লাখ মিসরীয় পাউন্ডসহ উৎসাহমূলক বিভিন্ন মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন বাংলাদেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ তানভীর হোসাইন।
