তিনি একজন ব্যবসায়ী। ঢাকা শহরে তার মুদিখানার দোকান আছে। ভালোই বেচাকেনা হয়, দোকানটিও বেশ বড়। রাত দুইটা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে দোকানটি। পরিবারের সদস্য চারজন। ছেলে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। সারারাত কম্পিউটার নিয়ে কাজ করে। মাসে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ইনকাম। মেয়েও বসে থাকে না। বাসায় ওভেনে কেক বানায়। প্রতিদিন প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ দোকানে কেক ভেলিভারি দেয়। তাতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার টাকা ইনকাম করে।
তার বাসায় কেউই বসে থাকে না। সবাই আয় উপার্জন করতে ব্যস্ত। দেখলে মনে হবে, তারা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সুখী পরিবার। কোনো অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্ট নেই তাদের।
কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সব সময় তাদের মুখ মলিন থাকে, মুখে কোনো হাসি নেই, উজ্জ্বলতা নেই। আর মুখে শুধু অভাবের কথা, অভাবের আলোচনা।
যখন আমি এসব ভাবছিলাম, ঠিক তখনই এশার নামাজের আজান শুরু হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এশার নামাজ কি জামাতে আদায় করেন? তিনি বললেন, না, এশার নামাজ জামাতে আদায় করা হয় না। তখন দোকান বন্ধ করতে গেলে অনেক কষ্ট হবে। আবার দোকান গোছানো লাগবে। তাই একবারে বাসায় গিয়ে নামাজ আদায় করি।
বাসায় কখন যান? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
দোকান বন্ধ করতে করতে রাত ২টা বেজে যায়, তিনি বললেন।
তখন তো এশার নামাজের মাকরুহ ওয়াক্ত চলে আসে!
দুই. ঢাকার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অনেক টাকা বেতন পান, ঢাকায় বাড়ি করেছেন; গাড়িও কিনেছেন কয়েক দিন আগে। সারাদিন ভার্সিটিতে ক্লাস শেষে সন্ধ্যায় একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। সেখান থেকেও প্রচুর আয় হয়। অনেক দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার সঙ্গে। তাই মাঝে-মধ্যে তার কাছে যাওয়া হয়। কিন্তু তার কাছে যখনই যায় তখনই তার মুখ থেকে অভাব-অনটন আর চহিদার কথা ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাই না।
সেদিন কথা বলার এক ফাঁকে সে আমাকে বলল, অভাব দূর হওয়ার কি কোনো দোয়া আছে? আমাকে একটু শিখিয়ে দিয়েন তো! আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে। ঠিক তখন মাগরিবের আজানের সুর ভেসে এলো কয়েকটি মসজিদ থেকে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, নামাজ কোন মসজিদে আদায় করেন?
সে বলল, সারাদিন ব্যস্ত থাকি তো তাই সময়মতো নামাজ পড়া হয় না। আমি ভাবি, অভাবের বিষয়টি কেন শুধু তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যাদের মধ্যে নামাজের অভাব রয়েছে? মনে পড়ে গেল, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিখ্যাত সেই হাদিসে কুদসি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে আদম
সন্তান! তুমি আমার ইবাদাতের জন্য কিছু সময় বের করো, আমি তোমার অন্তরকে ধনী বানিয়ে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। আর যদি তুমি তা না করো, তাহলে আমি তোমার দুই হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব-অনটনও দূর করব না।’ ইবনে মাজাহ
