বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প টেকসই ফ্যাশনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন পর্যন্ত এ খাতের ২০৬টি কারখানা লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি) সার্টিফিকেশন অর্জন করে বিশ^ব্যাপী সবুজ শিল্পের নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ। সবুজ কারখানাগুলোর অধিকাংশের প্রতিষ্ঠা হয়েছে গত পাঁচ বছরে। এ সময়ে ১২৯টি কারখানা এলইইডি সনদ পেয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত গ্রিন বিল্ডিং রেটিং সিস্টেম, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও জ্বালানি দক্ষতার প্রতি অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে এলইইডি। বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ২৪টি কারখানা এলইইডি সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। তবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সবুজ কারখানার সনদ পেয়েছিল ২০২২ সালে, ৩০টি। মূলত গত পাঁচ বছরেই সবচেয়ে বেশি পোশাক কারখানা এলইইডি সনদ পেয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সবুজ কারখানার সনদ পেয়েছিল ২০১৯ সালে, ২৮টি। এ ছাড়া ২০২০ সালে ২৩টি ও ২০২১ সালে ২৪টি পোশাক কারখানা সবুজের স্বীকৃতি পায়।
বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, এলইইডি সনদ পাওয়া বাংলাদেশের কারখানাগুলোর মধ্যে ৭৬টি সর্বোচ্চ প্ল্যাটিনাম রেটিং এবং ১১৬টি গোল্ড রেটিং পাওয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বৈশ্বিক পোশাক শিল্পের টেকসই অনুশীলনের ওপর ক্রমবর্ধমান মনোযোগের প্রেক্ষাপটে এই অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পোশাক খাতের মধ্যে সবুজ উদ্যোগের প্রতি দেশের নিষ্ঠার প্রমাণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ বৃদ্ধিতে এটিকে সম্ভাব্য অনুঘটক হিসেবে তুলে ধরেন মহিউদ্দিন রুবেল।
চলতি বছরে ২৪টি নতুন এলইইডি সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৬টি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটিনাম রেটিং পেয়েছে, বাকি আটটি গোল্ড রেটিং অর্জন করেছে। ২০২৩ সালে স্ট্যান্ডআউট পারফর্মারদের মধ্যে এস এম সোর্সিং ১০৬ পয়েন্ট এবং ১০৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে গ্রিন টেক্সটাইলস লিমিটেড ইউনিট-৪। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টিগ্রা ড্রেসেস ও নিট এশিয়া লিমিটেড ৯৯ পয়েন্ট, লিডা টেক্সটাইল অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড ৯৭ পয়েন্ট এবং লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ৯৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে।
২০২৩ সালের সার্টিফিকেশনগুলোর বেশিরভাগই ছিল গাজীপুরে (১৫টি কারখানা), এরপর ঢাকায় চারটি, চট্টগ্রামে তিনটি এবং ময়মনসিংহে দুইটি। এর থেকেই বোঝা যায় এলইইডি নীতিমালা দেশব্যাপীই গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে এলইইডি সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি টেকসই ফ্যাশনের প্রতি শিল্পের অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট সূচক।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ১০০টি এলইইডি সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানার মধ্যে ৫৪টি দেশে অবস্থিত, এই অর্জন বাংলাদেশকে বৈশ্বিক টেকসই ফ্যাশন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টির মধ্যে নয়টি এবং বিশ্বের শীর্ষ ২০টি এলইইডি সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ১৮টি রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই সার্টিফিকেশনগুলোর ভৌগোলিক বিস্তার স্থায়ীত্বের প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাপক অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১১ সালে দেশে এলইইডি সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। ২০১৪ সালে সবুজ কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে। এরপর থেকেই এ খাতের অনেক শিল্প সবুজায়নের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে নতুন ১১টি কারখানা এলইইডি সনদ পায়। ২০১৮ সালে দেশে সবুজ কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৭টিতে।
বর্তমানে ৫০০টিরও বেশি বাংলাদেশি কারখানা তাদের এলইইডি সার্টিফিকেশন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে সবুজ নীতি মেনে চলার শক্তপোক্ত ও চলমান প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়। টেকসই ফ্যাশনের দিকে এই পদক্ষেপ কেবল বৈশ্বিক পরিবেশগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং সবুজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি অগ্রগামী নেতৃত্ব হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এলইইডি রেটিং অর্জনের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিবেশগত তত্ত্বাবধানেরও একটি মানদ- এবং আরও টেকসই উৎপাদন অনুশীলনের বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় নেতৃত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
