যেকোনো সৃজনশীল ভালো ও বৈধ কাজ আত্মতুষ্টির পাশাপাশি অন্য যে কাউকে আনন্দ অথবা উপার্জনের পথ বাতলে দেয়। হোক সেটা কোনো লেখা কিংবা কিছু আবিষ্কারের মতো সৃজনশীল কর্ম। বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকেই বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক হালাল কাজ যেমন ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউব ভিডিও কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওসহ আরও বহুবিধ কাজ করছেন। সৃজনশীল এসব কাজ রুজি-রোজগারেরও একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই আবার উদ্যোক্তা হয়ে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমাদের চারদিকে দৃষ্টি দিলে এমন হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীকে দেখতে পাই। যারা তাদের নিজস্ব প্রতিভা কাজে লাগিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং অন্যকে তার কাজের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব স্বপ্নবাজ উদ্যমী মানুষদের আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন একটু উৎসাহ এবং মানসিক সাপোর্ট।
পরিবার, সমাজ, বন্ধু-বান্ধবসহ চারপাশের সবার ভরসা এবং সামান্য অনুপ্রেরণা তাদের কাজকে আরও ত্বরান্বিত করে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো এই স্বপ্নবাজদের কাজে উৎসাহ প্রদান না করে বরং তাদের নানাভাবে উপহাস করা হয়। তাদের নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং হেয়প্রতিপন্ন করে বিভিন্ন ধরনের কটাক্ষ করা হয়। এর ফলে তারা তাদের কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। অনেকে তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যান। কেউ কেউ হীনম্মন্যতা এবং মানসিক সমস্যায় ভোগেন। ফলে একটি সম্ভাবনাময় স্বপ্নবাজের স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং আমাদের উচিত এসব স্বপ্নবাজ উদ্যমী মানুষদের উপহাস না করে একটু উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
মুমিন নিজে যেমন ভালো কাজ করতে ভালোবাসে, তেমনি অন্যকেও ভালো কাজে উৎসাহিত করে। কারণ আল্লাহর রাসুল (সা.) তাদের এই শিক্ষাই দিয়েছেন। হাদিসে শরিফে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে ডাকবে, সে তার অনুসারীর সমান সওয়াব পাবে। অথচ অনুসরণকারীর সওয়াব কমানো হবে না। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে ডাকবে, সে তার অনুসারীর সমান পাপে জর্জরিত হবে। তার অনুসারীর পাপ মোটেও কমানো হবে না।’ সুনানে আবু দাউদ : ৪৬০৯
এজন্য প্রকৃত মুমিনরা সর্বদা ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করার চেষ্টা করে এবং অন্যকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করে। মুমিন কখনো একা একা জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে না, বরং তারা তাদের অপর ভাইকে নিয়েই জান্নাতে যেতে চায়। আল্লাহভোলা মানুষদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সাধ্যমতো প্রতিটি নেক কাজে অন্যের সহযোগিতা করে, উৎসাহ দেয়।
নবী করিম (সা.) তার কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা উঁচু ও মহৎ কাজ এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করেন এবং নিকৃষ্ট কাজ অপছন্দ করেন।’ সুনানে তাবরানি : ২৮৯৪
অন্যকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করা এই উম্মতের দায়িত্ব। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘বলুন, এটাই আমার পথ, আল্লাহর প্রতি মানুষকে আমি ডাকি জেনে-বুঝে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও।’ সুরা ইউসুফ : ১০৮
উল্লিখিত আয়াতে ‘যারা আমার অনুসরণ করেছে’ কাদের বোঝানো হয়েছে, তা নির্ধারণে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এতে সাহাবায়ে কেরামকে বোঝানো হয়েছে, যারা রাসুল (সা.)-এর জ্ঞানের বাহক। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম এই উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিরা। তাদের অন্তর পবিত্র এবং জ্ঞান সুগভীর।
