সোনালী ব্যাংকের রেকর্ড পরিচালন মুনাফা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৫৬ এএম

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ২০২৩ সালে রেকর্ড পরিচালন মুনাফা করেছে। আর্থিক সংকটের ওই বছরটিতে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। এক বছরে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ৫৬ শতাংশের বেশি। আলোচিত বছরে ব্যাংকটির আমানত বৃদ্ধির পাশাপাশি পারফর্মিং ঋণ বাড়ায় মুনাফা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফজাল করিম। গতকাল সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

তবে রেকর্ড পরিচালন মুনাফার কতটা শেষ পর্যন্ত নিট মুনাফা হিসেবে টিকবে সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয়। পরিচালন মুনাফা থেকে পরিচালন ব্যয়, ঋণের বিপরীতে প্রভিশন এবং করপোরেট কর বাদ দেওয়ার পর নিট মুনাফা হিসাব করা হয়। এসব ব্যয় আমলে নিলে ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা বিপুল পরিমাণে হ্রাস পাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রভিশন রাখতে অতিরিক্ত সময় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আফজাল করিম।

বর্তমানে ব্যাংকটিতে আমানত রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা, যা গত বছরের চেয়ে ৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা বেশি। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি ডিপোজিট এখন সোনালী ব্যাংকে। এই বিপুল ডিপোজিট ব্যবহার করতে পারলে আগামী বছরেই পাঁচ হাজার কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করাসহ সব সূচকে ব্যাংকটি ভালো করবে বলে মনে করেন আফজাল করিম।

সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সাল শেষে ১ লাখ ৮০৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এতে ব্যাংকটির আমানত ও ঋণের আনুপাতিক হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশ, যা আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আফজাল করিম জানান, ‘২০২২ সাল থেকে ব্যাংকের নিট সুদ আয় ইতিবাচক হয়েছে এবং সে ধারা অব্যাহত আছে। ২০২৩ সাল শেষে নিট সুদ আয় ২৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮২৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।’ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে যত ঋণ বিতরণ হয় তার ১৫ শতাংশই সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আগের খেলাপি থেকে এ বছরে ৫৬৭ কোটি টাকা নগদ আদায় করতে পেরেছে ব্যাংকটি, যা আগের বছরের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি। ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ১৭ থেকে ৯টিতে নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৯৯২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

আফজাল করিম আরও জানান, ২০০৭ সালে আমাদের ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। ধারাবাহিকভাবে তা কমে এখন ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় নেমেছে। মুনাফা বাড়ায় অচিরেই মূলধন ঘাটতি শূন্যে নেমে  আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক বর্তমানে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ব্যাংক। এখন আমরা স্মার্ট ব্যাকিং সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করছি। পেপারলেস ব্যাংকিং কার্যক্রমে চালু করেছে চেকবিহীন কিউআর কোড দিয়ে টাকা উত্তোলন সেবা। এখন থেকে চেক ছাড়াই মাত্র দুই মিনিটেই যেকোনো শাখা থেকে কোনো চার্জ ছাড়াই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন সোনালী ব্যাংকের গ্রাহকরা। চেক ছাড়া টাকা উত্তোলনের জন্য শুধু প্রয়োজন হবে সোনালী ই-ওয়ালেট অ্যাপস। মোবাইলে ইন্সটল থাকতে হবে অ্যাপসটি। থাকছে না স্বাক্ষর ভেরিফিকেশনের কোনো ঝামেলা। সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ‘কিউআর কোড’ টাঙানো থাকবে। সোনালী ই-ওয়ালেট অ্যাপসের মাধ্যমে অ্যাড মানি ফিচার ব্যবহার করে ই-ওয়ালেটে টাকা উত্তোলন করা যাবে। এরপর ক্যাশ সেকশনে টাকার পরিমাণ ও মোবাইল নম্বর বলে আপনার টাকা গ্রহণ করতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

টাকা পে-কার্ড চালুর মাধ্যমে লেনদেনের ফলে সব ধরনের চার্জ কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত