জাপার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে খুলনার নেতাদের ক্ষোভ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:২৭ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার প্রার্থীদের কোনো খরচ দেয়নি কেন্দ্র। এ ছাড়া জেলার একটি আসনেও জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছাড় দেয়নি আওয়ামী লীগ। ফলে নৌকা অথবা আওয়ামী লীগ থেকে ভোটে দাঁড়ানো স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই জিতে যাবে এমন আশঙ্কা জেলার নেতাদের। এ বস্থায় জেলার দলটির প্রার্থীরা পড়েছে জামানত হারানোর শঙ্কায়। একই সঙ্গে কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তারা।

খুলনা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা জেলায় ছয়টি আসন। সবগুলো আসনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি। খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী হাসানুর রশিদ, খুলনা-২ আসনে (সদর-সোনাডাঙ্গা) মো. গাউসুল আজম, খুলনা-৩ আসনে (খুলনা সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং দিঘলিয়া উপজেলার আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা-৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) মো. ফরহাদ আহমেদ, খুলনা-৫ আসনে (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) মো. শাহীদ আলম ও খুলনা-৬ আসনে মো. শফিকুল ইসলাম মধু। ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও খুলনার মাঠে এসব প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই বললেই চলে।

ভোটাররা জানান, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এক থেকে দুটি আসনে কিছু লিফলেট বিতরণ করেন। তাছাড়া তাদের প্রার্থীদের কোনো প্রচারণাই শোনা বা তাদের দেখাও যাচ্ছে না। তবে এবার নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের জামানত হারানোর শঙ্কা রয়েছে।

খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মো. রহমত আলী খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিগত দিনগুলোতে দলীয় সরকারের অধীনে একতরফা নির্বাচনগুলো দেখেছি। খুলনাতে এবারও একতরফা নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা কাজে আসবে না। সরকার চিন্তা করেছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারাই ক্ষমতায় যাবে। কাজেই সাধারণ ভোটারের মাধ্যমে এখানে অন্য দলের বিকাশ ঘটানোর সুযোগ নেই।

রহমত আলী আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচনে যাওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধন্তে নির্বাচনে এখনো আছি। কিন্তু দলের কোনো আর্থিক খরচ পাচ্ছি না। প্রার্থীরা সক্ষমতা অনুযায়ী যতটুকু পেরেছে সেটুকুই প্রচারণা চালিয়েছে। এ ছাড়া দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের পক্ষ থেকে কোনো দিকনির্দেশনাও আসেনি। কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না।

খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে নির্বাচন হবে তাতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জামানত হারাবে। কারণ ভোট উৎসবমুখর হচ্ছে না। ভোটার নিজের ইচ্ছেই কেন্দ্রে আসবে না। এ ছাড়া খুলনা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের বি টিম আওয়ামী লীগ। তারাই নির্বাচন করছে। জাতীয় পার্টি আছে নামমাত্রই।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ৩০ বছর ক্ষমতাই নেই। প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা কারও ভালো, কারও খরাপ। কিন্তু কেন্দ্র থেকে কোনো খরচই দিচ্ছে না। নির্বাচন করতে গেলে অনেক টাকা লাগে। পকেটের টাকা কত সময় খরচ করবে? তারা (কেন্দ্রীয় নেতারা) মাথা বিক্রি করে লুটে খাবে তা তো হয় না।

মধু আরও বলেন, কথা ছিল খুলনা-৬ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু সেটিও হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শেষমেষ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত