খুলনা-৫ আসনে (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে ভোট না দিলে বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি সুবিধাভোগীদের কার্ড বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন তার অনুসারী চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শেখ আকরাম হোসেন।
আকরাম হোসেন বলেন, ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক, নগরকুলি, গ্রাম-পুলিশ, গ্রাম্য স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ সম্প্রদায়ের শিক্ষক, সরকারি মহিলাবিষয়ক কর্মীসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করাচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ডুমুরিয়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশিষ বিশ্বাস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেনসহ কয়েকজন অফিসারের প্রত্যক্ষ মদদে বিতর্কিত পদ্ধতিতে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওইসব কর্মকর্তা, তার ভাইপো শিক্ষক দেবাশিষ চন্দ এবং তার অনুসারী শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারকে কারচুপির মাধ্যমে হারিয়ে দেন। ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান উপজেলা নির্বাচন অফিসার কল্লোল বিশ্বাস ও ওই কর্মকর্তারা সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দের নির্দেশনায় ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে ১২ জনকে পরাজিত করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন নৌকার প্রার্থী। এ ছাড়া ৮৯ জন প্রিসাইডিং অফিসারের মধ্যে ৭৯ জনই একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে। ফলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু অন্য কেউ ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘স্যার মিটিংয়ে রয়েছেন।’
