একে একে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীরা। কারণ হিসেবে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়ী করছেন। তবে অনেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দ্বাদশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আজ বুধবারও ৪টি আসন থেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাপার প্রার্থীরা।
বুধবার (৩ জানুয়ারি) পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২, সিলেট-৫ ও গাইবান্ধা-৫ আসনের প্রার্থীরা সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন সিলেট-৫ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সাব্বির আহমদ। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে সে পরিবেশ নেই। এ কারণে নির্বাচন বয়কট করছেন।
বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার। এ সময় আতাউর রহমান সরকার বলেন, ‘সরকারের একতরফা নির্বাচন, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়েছি। মূলত আমি আর পারছি না, যার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’ তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক।
এদিকে প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৩ আসনের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দোষ দিয়ে যারা মিডিয়ার সামনে ঘোষণা দিয়ে সরে যাচ্ছেন নির্বাচন থেকে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। যারা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে সরে যাচ্ছেন। এগুলো যাচাই-বাছাই করে আগামীতে তাদের বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত জাতীয় পার্টির ১৩ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
