খতনা করতে গিয়ে চার দিন ধরে অচেতন শিশু

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৫ এএম

চার দিন আগেও খেলছিল, কথা বলছিল ৫ বছর বয়সী আয়ান আহমেদ। ৩১ ডিসেম্বর তার সুন্নতে খতনার জন্য রাজধানীর বাড্ডার মাদানী অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাধারণ একটা অস্ত্রোপচার করাতে এসে এখন মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয়েছে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে তাকে রাখা হয়েছে লাইফ সাপোর্টে। সে আর বেঁচে ফিরবে কি না জানেন না তার স্বজনরা। চিকিৎসকরাও বলছেন না কিছু। স্বজনদের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের ভুলের কারণে আয়ানের জীবন এখন সংকটাপন্ন।

গতকাল বুধবার আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলেকে যখন অপারেশন থিয়েটারে নেয়, তখন ২০-৩০ জন ইন্টার্ন স্টুডেন্ট ছিল। তারা অজ্ঞান করার ওষুধ বেশি দিয়েছে, যেন তাদের ক্লাস নিতে সুবিধা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে ক্লাস নিয়েছে। একদম সুস্থ-সবল একটা ছেলে আমি নিয়ে গেছি। যখন গেছে সে কত হাসিখুশি ছিল। মুসলমানি করতে এসে যদি আমার ছেলেকে এভাবে নিয়ে যেতে হয় তাহলে আর কী বলব।’

আয়ানের দাদা ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, শামীমের দুই সন্তানের মধ্যে আয়ান বড়। তার খতনার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা সব ঠিক দেখে ৩১ ডিসেম্বর নিয়ে যেতে বলেন। এরপর সময়মতো তারা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আয়ানকে খতনার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার অনেক সময় পার হলেও আয়ানের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে আয়ানের বাবা শামীম অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, তার ছেলের নাকে-মুখে নল লাগিয়ে শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তখন চিকিৎসকরা জানান, ফুল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য এ অবস্থা। পরে আয়ানকে মুমূর্ষু অবস্থায় গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে আনা হয়। চার দিনেও তার জ্ঞান ফেরেনি।

গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাননি তারা। ঘটনাটি যেহেতু বাড্ডা সাঁতারকুল এলাকায় হসপিটালে হয়েছে, তাই অভিযোগটি ওই এলাকা-সংশ্লিষ্ট থানায় করতে হবে। তবে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আরিফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিশু আয়ান এখনো চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। তাকে সুস্থ করে তুলতে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে।

তবে আয়ান আহমেদের খালু মোহাম্মদ মানিক বলেন, ‘হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ চার দিন ধরে আমাদের নানাভাবে আশা দিয়ে যাচ্ছে। আয়ান বেঁচে আছে, তাকে বাঁচানো যাবে বলে মিথ্যা কথা বলছেন চিকিৎসকরাও। তাদের কথা আমরা আশায় বুক বেঁধে ছিলাম। কিন্তু আয়ান বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে স্পষ্ট করে কিছুই বলছেন না। এখন চিকিৎসকরা বলছেন, আয়ানের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হবে কি না পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে।’

মোহাম্মদ মানিক বলেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেও আয়ান হাসিমুখে বাড়িতে খেলছিল। চিকিৎসকরা খতনা করতে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়েছিল আয়ান। কিন্তু এটাই ছিল শিশু আয়ানের শেষ হাসি। চার দিন ধরে আয়ানের ফিরে আসা ও হাসিমুখ দেখতে হাসপাতালে অপেক্ষার প্রহর গুনছে পুরো পরিবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত