রাজধানী ঢাকা-১৩ আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মাঠ থেকে উধাও তিন প্রার্থী। কোনো কেন্দ্রে তাদের এজেন্ট নেই। নৌকা ছাড়া মাঠে থাকা অপর দুই প্রার্থীর (ফুলের মালা ও একতারা) সব কেন্দ্র এজেন্ট থাকলেও তারা সবাই নৌকার হয়ে কাজ করছেন। অর্থাৎ ঢাকা-১৩ আসনে সব প্রার্থীর সমর্থক এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তারা সবাই নৌকায় উঠে পড়েছেন।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই আসনের বসিলা, রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর বাঁশবাড়ী, আদাবর, শেরে বাংলা নগর এলাকার ভোটকেন্দ্র ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
দুপুর ১টায় শেরে বাংলা নগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাডেমীর দ্বিতীয় তলায় কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, নৌকা, ফুলের মালা ও একতারার এজেন্টরা খোঁশগল্পে মত্ত। কেন্দ্রের ভেতরের ছবি তুলতে গেলে একযোগে তেড়ে আসেন তারা। নির্বাচনী আচরণবিধিতে একজন সাংবাদিকের কেন্দ্রের ভেতরের ছবি তোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, তাদের বলার পরও তারা প্রতিবেদকের কাজে বাধা দেয়। এই অবস্থায় ছুটে আসেন আনসার সদস্য, তিনিও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে দেশ রূপান্তর প্রতিবেদক ভোটকেন্দ্রর ভেতর থেকে বের করে আনেন। এই অবস্থায় ছুটে আসেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য। তিনি তাদেরকে বোঝালেন, সাংবাদিকরা কেন্দ্রের ভেতরের ছবি তুলতে পারবেন। এরপর দেশ রূপান্তর প্রতিবেদকের কেন্দ্রর ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলে।
এজেন্টদের পরিচিতি জানতে চাইলে, তারা আলাদাভাবে নৌকা, একতারা ও ফুলের মালার পরিচয় দেন। সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক কিনা, জানতে চাইলে জবাবে তারা মুচকি হাঁসি দেন।
রায়ের বাজার আলহাজ্ব আবুল হাসেম খান ইউসেফ স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয় বেলা ১১টায়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে দেখা যায়, ভোটের বুথগুলোতে নৌকা-একতারা ও ফুলের মালার প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যায় সখ্যতা। ভোটারের উপস্থিতি কম থাকায় একসঙ্গে সকালের নাস্তা ও খোঁশগল্পে মেতে থাকতে দেখা যায়।
ঢাকা-১৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছড়ি প্রতীকে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের শাহাবুদ্দিন, একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির সোহেল সামাদ বাচ্চু, টেলিভিশন প্রতীকে ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের জাহাঙ্গীর কামাল, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের জাফর ইকবাল নান্টু এবং ফুলের মালা প্রতীকে তরিকত ফেডারেশনের কামরুল আহসান।
এসব প্রার্থীদের মধ্যে, নৌকার গানে সুর মিলিয়ছেন; ফুলের মালা-একতারা; আর মাঠ থেকে উধাও ছড়ি, টেলিভিশন ও মোমবাতির প্রার্থীরা।
প্রসঙ্গত, ঢাকা-১৩ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮টি; এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৭৪৪টি, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৮টি এবং হিজড়া ভোটার ৬টি। মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, আদাবর ও শেরে বাংলা নগর থানার অংশ বিশেষ নিয়ে এই সংসদীয় আসন।
