হামাগুড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে এলেন বোবা আসমা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম

দুপুরের একটু পর মাকে সাথে নিয়ে হামাগুড়ি দিতে দিতে ভোট কেন্দ্রে আসেন আসমা আক্তার (৩৫)। শিশুকালে পোলিওতে তার দুটি পা বাঁকা হয়ে যায়। সেই থেকে হামাগুড়ি দিয়ে চলেন তিনি। একটি হুইল চেয়ারের অভাবে দুঃসহ জীবন কাটছে তার। তবুও ভোটের আনন্দে কষ্ট করে হামাগুড়ি দিতে দিতে ভোট কেন্দ্রে চলে আসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আসমা আক্তার।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসনের শ্রীপুর পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোট কেন্দ্রে এমনি চিত্র চোখে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে তাকে কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করেন। তার ভোট দেওয়ার পর তার মা-ও একই বুথে ভোট দেন। এ সময় তার মায়ের সহযোগিতায় ভোট কক্ষে প্রবেশ করেন আসমা আক্তার। কোলে তোলে তাকে বক্সে ব্যালট পেপার ফেলতে সহযোগিতাও করেন মা।

আসমা আক্তারের মা মনোয়ারা বলেন, ছোটকালে আসমা পোলিও রোগে আক্রান্ত হলে পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একসময় তার দুটি পা বেঁকে যায়। এতে সে অচল হয়ে পড়ে। পরে আস্তে আস্তে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতে থাকে। তিনি বলেন, অসুখের পর পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কিছু দিন পর থেকে তার কথা বলাতেও সমস্যা দেখা দেয়। এখন সে স্পষ্ট কথাও বলতে পারে না। তিনি দাবি করে তার স্বামী (আসমার বাবা) মারা যাওয়ার পর সংসার চালাতে নানা জনের কাছে সহযোগী নিতে হয়েছে। মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। তার ওপর এমন অসুস্থ পঙ্গু মেয়েকে নিয়ে তিনি চরম কষ্টে দিনানিপাত করছেন। তার চলাচলের একটা হুইল চেয়ার খুব দরকার বলেও তিনি আকুতি জানান।

শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দারা মন্ডল বলেন, দুপুরের পর হামাগুড়ি দিতে দিতে মায়ের সাথে পঙ্গু আসমা আক্তার কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়। এমন কষ্ট করে তার ভোট প্রদানের আগ্রহ সবাইকে বিস্মিত করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত