অপ্রীতিকর দুই-একটি ঘটনা ছাড়া অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবে চট্টগ্রামে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রমুখী হওয়ার আগ্রহ ছিল কম। বিভিন্ন কেন্দ্রে বয়স্ক ভোটারের উপস্থিতিও ছিল একেবারে নগণ্য। ভোট চলাকালে বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে ছিল টান টান উত্তেজনা। চট্টগ্রাম-১০ আসনের একটি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বেশ কিছু কেন্দ্রে।
ভোট চলাকালে সরেজমিন বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে কম ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। সকাল ৯টায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারের কোনো লাইন নেই। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক ফয়সাল মো. মঈনুল কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোট শুরুর প্রথম এক ঘণ্টায় ৬টি বুথ মিলে ৫২ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ২ হাজার ২৫৫ জন। সকাল ১০টায় চান্দগাঁও থানাধীন চর রাঙ্গামাটিয়া স্কুল কেন্দ্রের বাইরে ফুলকপি ও কেটলি প্রতীকের কর্মীদের ভিড় দেখা গেলেও ভেতরে ছিল ফাঁকা। কেন্দ্রটিতে সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৮৯টি ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার শোয়েব মো. বাবর। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২৭৪।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালামকে এ সময় ওই কেন্দ্র থেকে বের হতে দেখা যায়। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ ভোট দিচ্ছে। বেলা বাড়লে ভোটারও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম-১১ আসনের পতেঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ নম্বর বুথে ৩১৪ জন ভোটারের মধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৬টি ভোট পড়ে। তবে একই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রের ৪ নম্বর বুথে ২২০ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুর রহমান চৌধুরী।
নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়। চট্টগ্রাম-৪ সীতাকু- আসনের এই কেন্দ্রের বাইরে মানুষের জটলা দেখা গেলেও ভেতরে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। সকাল ৯টার দিকে এই চিত্র দেখা গেলেও এক ঘণ্টা পর বাড়তে থাকে ভোটারদের উপস্থিতি। শুধু এই কেন্দ্রেই নয়, নগরীর প্রায় সব কেন্দ্রেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। চট্টগ্রাম-১০ আসনের হালিশহর রাবেয়া বসরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও প্রায় ফাঁকা দেখা যায়, কিন্তু বেলা ১১টার পর থেকে বাড়ে ভোটারদের উপস্থিতি। একই আসনের পাহাড়তলী কলেজ কেন্দ্রে বেলা ১টার দিকে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই কলেজে গতকাল চারটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ হয়েছে। ৬৬ নম্বর মহিলা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমার কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৮০ ভোটের মধ্যে ৩৪২ ভোট পড়েছে। এ ছাড়া ৬৫ নম্বর কেন্দ্রে ২ হাজার ৬০৩ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ৬৭ নম্বর কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৯৮ ভোটের মধ্যে ১৭ শতাংশ ও ৬৮ নম্বর কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৭২ ভোটের মধ্যে ১৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।’
চট্টগ্রাম-৮ আসনের চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে গতকাল সকাল থেকে প্রায় তিন দফা সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ বেলা ১টার দিকে এই কেন্দ্রের গেট ভেঙে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় ১১৬ নম্বর আল হিকমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল নামের কেন্দ্রের গেট ভেঙে প্রায় শতাধিক বিএনপি কর্মী ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। এ বিষয়ে কেন্দ্রের আনসার সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা গেট তালা দিয়ে রেখেছিলাম। বাইরে থেকে প্রায় শতাধিক বিএনপির কর্মী গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান।’ ভাঙচুরের বিষয়ে কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার মিনহাজ উদ্দিন বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রের ৩ হাজার ৯৫৯ ভোটের মধ্যে জমা পড়েছে ২০৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের ১০টি কেন্দ্রে তেমন ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি। সকাল ৮টায় পূর্ব মনসা আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো এজেন্ট নেই। নারী ভোটার না থাকলেও ৩০ জনের মতো পুরুষ ভোটার ছিলেন। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৫ হাজার ১০৬ জন। ভোটার উপস্থিতি কমের বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার মিজানুল হাসান বলেন, শীতের সকাল তাই ভোটারের উপস্থিতি কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়বে।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সব কটি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত এই আসনের পাঁচটি ভোটকেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভোটার উপিস্থিতি ছিল একেবারেই কম। এসব কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার।
দুপুর ১২টায় হামজারবাগ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, বাইরে প্রচুর লোকজন ভিড় করলেও ভোটকেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ সুনসান। ভোটার উপস্থিতি কম। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ হাজার ৬৬২ জন। প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল হালিম জানান, ১২টা ৪ মিনিট পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি জানান, সকালে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ফটিকছড়ি জামিউল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের নারী-পুরুষের লাইনে কোনো ভোটার নেই। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। কেন্দ্রটির মোট ভোটার ১ হাজার ৬৫৪। ১০টা ৪০ মিনিটে ভোট সংগ্রহ হয় ১০০।
