দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯৫ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র একজন ছাড়া বাকি প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ৭ জানুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট হয়েছে। একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় নওগাঁ-২ আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়নি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে একমাত্র ময়মনসিংহ-৩ আসনের ফলাফল আটকে আছে। শেষ পর্যন্ত ২৯৮ আসনের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি একটি করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রদত্ত ভোটের ৪৫ শতাংশ পড়েছে নৌকার বিজয়ী প্রার্থীদের আসনে। স্বতন্ত্র ৬২ প্রার্থীর আসনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ১১টি আসনে ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
৯৫ শতাংশ আসনে জয় আওয়ামী লীগের : বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচনে না এলেও ভোটের আলোচনায় ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শতাধিক আসনে নৌকার প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নৌকার প্রার্থীরা ২২২ আসনে জয় পেলেও ৬২টি আসন হারাতে হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে। ৬১টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন। আর একজন প্রার্থী বিএনপি থেকে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। মোটের ওপর আওয়ামী লীগ (স্বতন্ত্রসহ) ৯৫ শতাংশ আসনে জয়লাভ করেছে।
ভোটের সর্বোচ্চ হার গোপালগঞ্জে, সর্বনিম্ন ঢাকায় : নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সর্বোচ্চ হারে ভোট পড়েছে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এবং সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ঢাকা-১৫ আসনে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২৯৮টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট পড়েছে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে। এ আসনে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ৯৫% আসন নৌকা স্বতন্ত্রের তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একতারা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির এম নিজাম উদ্দিন লস্কর। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪৬৯।
ভোট পড়ার হারের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে আছে গোপালগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে ভোট পড়েছে ৮৩ দশমিক ২০ ভাগ। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলুল করিম সেলিম পেয়েছেন ২ লাখ ৯৫ হাজার ২৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির কাজী শাহীন পেয়েছেন ১ হাজার ৫১৪ ভোট।
ভোটের হারে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-১৫ আসন। রাজধানী ঢাকার এ আসনে ভোট পড়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার। তার ভোট ৩৯ হাজার ৬৩২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির মো. সামছুল হক। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪ ভোট।
শুধু ঢাকা-১৫ আসনে নয়, রাজধানীতে জাতীয় সংসদের ১৫টি আসনেই ভোট পড়ার হার কম। ভোট কম পড়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-১৭ আসন। এখানে ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ আসনে জিতেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি ৪৮ হাজার ৫৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কুলা মার্কা নিয়ে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আইনুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮০ ভোট।
ঢাকা মহানগরে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ আসনে। আসনটিতে ৩০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ আসনে জিতেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তার ভোট ৯৪ হাজার ৬৭৯। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির খোরশেদ আলম। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ২১৯ ভোট।
বিজয়ীদের কে কত ভোট পেলেন : নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৯ হাজার ১৪১। মোট প্রদত্ত ভোট ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৭টি। আওয়ামী লীগের জয়ী ২২২ প্রার্থী ৩ কোটির বেশি ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৬২ আসনে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রায় ৭২ লাখ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির জয়ী ১১ জন সাড়ে ৯ লাখের মতো ভোট পেয়েছেন।
এবার ভোটে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। তিনটি আসনে ভোট পড়েছে ওই আসনগুলোর মোট ভোটের ৩৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির রাশেদ খান মেনন নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৫, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন পেয়েছেন ৪২ হাজার ৭৭৫ ভোট এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম পেয়েছেন ৮১ হাজার ৯৫৫ ভোট।
