দীর্ঘ ৫ মাস পর রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের ভাড়াবাসায় ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তিনি বাসায় পৌঁছান। এর আগে বিকেল ৫টায় হাসপাতাল থেকে গুলশানে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
রাতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে-বিদেশের চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন। বাসায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও দলীয় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলবে।’ তিনি বলেন, ‘লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সুপারিশ ছিল। কিন্তু সরকার অনুমতি দেয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা এসে অপারেশন করেন। সার্থক অপারেশনের কারণে তিনি আজ অনেকটা সুস্থ রয়েছেন। এই চিকিৎসা সাময়িক। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কিছুটা সময় পাওয়া গেছে।’
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দলের নেতাকর্মী।
জানা গেছে, চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবনে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানাসহ বিভিন্ন নেতারা।
লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়া গত বছরের ৯ আগস্ট শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার রাতে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবারও কেবিনে নেওয়া হয়। এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
৭৭ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, লিভারসহ নানা রোগে ভুগছেন। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য পরিবার ও দলের পক্ষে সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দির পর খালেদা জিয়া একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অসুস্থতার মধ্যে গুলশানের ভাড়াবাসা ‘ফিরোজা’য় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণেও চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে গত ৯ আগস্ট থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারী শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তাকে নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে চিকিৎসার জন্য ছয় মাসের সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এরপর থেকে তার পরিবারের আবেদনে দন্ডাদেশ স্থগিতের মেয়াদ ছয় মাস করে বাড়ানো হচ্ছে। তিনি গুলশানের বাসায় অবস্থান করেন। চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের সদস্যরা তাকে দেশের বাইরে নিতে চাইলেও সে অনুমতি মেলেনি। খালেদা জিয়া বন্দির পর তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।
