পরাজিত প্রার্থীর এজেন্টকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:১১ এএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নাটেশ্বরে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত শাহিদুজ্জামান পলাশ (৩৫) ওই গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে। তিনি নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি আংশিক) আসনের পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। শনিবার রাত ১টার দিকে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাটেশ্বর গ্রাম থেকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এই হত্যাকা- নির্বাচনী সহিংসতা নাকি অন্য কোনো ইস্যু তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।  পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে এসে নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার বাড়ির (ঘটনাস্থল) একটি বসতঘরের পাশাপাশি একটি মুরগির খামার আছে, এগুলো তিনি দেখাশোনা করতেন। শনিবার বিকেলে কিছু মুরগি বিক্রি করার পর খামারে কর্মরত দুই কর্মচারী সন্ধ্যায় চলে গেলে পলাশ একা খামারে ছিলেন। রাত ৮টার দিকে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলেন। খামার থেকে একটি হাঁস পার্টিতে গিয়ে রাতে বাড়ি ফিরবেন বলে জানান। এরপর রাত ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন তার ঘরের পাশে পলাশের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। 

স্থানীয়রা জানায়, পাঁচ বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন পলাশ। এরই মধ্যে পুনরায় ইতালি যাওয়ার জন্য টাকাও জমা দিয়েছেন। সদ্য শেষ হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূইঁয়া মানিকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন পলাশ। নির্বাচনের দিন একটি কেন্দ্রে এজেন্টের দায়িত্বে ছিলেন।

স্বতন্ত্র কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক বলেন, ‘তারা (মোরশেদ আলম এমপির লোকজন) প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রতিদিনই সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, বজরা এলকায় এসে আমার কর্মী ও এজেন্টদের হুমকি দিত। গতকালও আমার লোকজনদের হুমকি-ধমকি দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে আমাকে জানিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমকে ফোন করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। তবে মোরশেদ আলম এমপির ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘গতকাল ৬নং নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শাহিদুজ্জামান পলাশকে  নৃশংসভাবে হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। আমি এই জঘন্য হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। খুনি যে দলেরই হোক শাস্তি তাকে পেতেই হবে। আমি নিহত পলাশের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই হত্যাকা- সুষ্ঠু তদন্তে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সাথে কোনো নিরীহ লোক যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার মাথায় ভারী কোনো জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাইনি, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং হত্যার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে।’

পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর, লুট : মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন সদরের চরাঞ্চলের আধারা ইউনিয়নে গতকাল রবিবার সকালে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অংশ হিসেবে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০টি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর এবং গরু-ছাগল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দুই নারীসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। আহত রেণু বেগম (৫০), মাহফুজ (৫০) ও শাহানাজ বেগমকে (৫০) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

ঘটনার পর থেকে দুটি গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদরের আধারা ইউনিয়নের বকুলতলা ও শোলারচর গ্রামে কয়েক দফা হামলায় এসব ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আলী হোসেন ও সুরুজ মেম্বারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের সূত্র ধরে নির্বাচনের পক্ষ-বিপক্ষকে সামনে রেখে এমন ঘটনা বলে দাবি স্থানীয়দের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সদ্য জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন তারা। ভোরে দলবদ্ধভাবে শতাধিক লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্র উঁচিয়ে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় চাইনিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় গোয়ালে থাকা ১৫টি গরু ও ৮টি ছাগলও নিয়ে যায় তারা। বিজয়ী কাঁচি প্রতীকের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থকরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ঘটনার পরপর এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও লুট করা মালামাল উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাহাবুব ভূঁইয়ার স্ত্রী জাকিয়া বেগম জানান, তার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে ৫টি গরু, ৮টি ছাগল ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেন। তাদের বাড়িতে  সিসি ক্যামেরা থাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দুটি সিসি ক্যামেরা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল হাসান বলেন, ‘সকালে এলাকাটিতে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ সময় পরিদর্শনকালে ৭টি ঘর ভাঙচুরের চিত্র দেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ৫টি ভাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪টি গরু উদ্ধার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত