দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে কোন দল কত আসন পাবে তা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখনো কাটেনি। নিয়ম অনুসারে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৩৭ ও জাতীয় পার্টি ২ জন নারী সদস্যকে মনোনয়ন দিতে পারবে। কিন্তু বাকি ১১টি আসনে কারা মনোনয়ন দেবে সে বিষয়টি সুরাহা করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার রেকর্ড ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এ কারণে সংসদে বিরোধী দলের আসনে কারা বসবে তা নিয়ে জটিলতা আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের আসন বণ্টনের বিষয়টিও।
তবে এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার বলছেন ইসি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করে আসতে হবে। যদিও ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসতে চায় ইসি। ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিশন অনুমতি দিলে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা হবে। আগামী সপ্তাহে কমিশনের সভা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হতে পারে।’
তথ্য বলছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২৩টিতে, জাতীয় পার্টি ১১টি আসন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। এবার রেকর্ড ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৯ জনই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বাকিদের মধ্যে দুজনের একজন বিএনপি ও আরেকজন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির হিসেবে, এবার আওয়ামী লীগ ৩৭টি, জাতীয় পার্টি দুটি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১১টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে। সরাসরি নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, কল্যাণ পার্টি একটি করে আসন পাওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসন পাবে না। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোথাও যোগ দিলে তখন হিসাব পাল্টাবে।
আইন অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। গত ৯ জানুয়ারি গেজেট হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের। এ হিসাবে আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোট করতে হবে ইসিকে।
আসন বণ্টন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনো নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকা নেই। তারা শুধু দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবে। এ ক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে নারী আসন বণ্টন হবে। সংবিধান অনুসারে বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৫০। এ ৫০ সংখ্যাকে ৩০০ (দেশের নির্বাচনী এলাকা) দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে তাকে কোনো দল বা জোটের যে সংখ্যক সদস্য শপথ নিয়েছেন, তা দিয়ে গুণ করলে যে ফল পাওয়া যাবে, সেই সংখ্যক নারী সদস্য হবে ওই দল বা জোটের। গুণফল ভগ্নাংশ হলে সে ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫ বা তার থেকে বেশি সংখ্যকের জন্য একটি আসন পাওয়া যাবে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে বণ্টিত আসন সংখ্যা মোট আসনের থেকে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এবার জাতীয় পার্টি সংসদে ১১টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে এ দলটির দুটি সংরক্ষিত নারী সদস্য পাওয়ার কথা। ৫০৩০০ = ০.১৬৬৭। এরপর ১১০.১৬৬৭= ১.৮৩। এই হিসাবে আওয়ামী লীগ এককভাবে পায় ৩৭টি। কারণ ৫০৩০০ = ০.১৬৬৭। এরপর ২২১০.১৬৬৭= ৩৬.৮৪। যেহেতু জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি নৌকা প্রতীকে দুজন নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন সে হিসাবে ২২৩০.১৬৬৭=৩৭.১৭ জন। অবশ্য অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে এ সংখ্যা বেড়ে যাবে।
এবার ৬২ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। এ ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসনের বণ্টন কীভাবে হবে? জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেব, দলগুলো কোটা অনুযায়ী কতটি পাবে, সে ব্যাপারে বলে দেওয়া হবে।’ স্বতন্ত্ররা যদি কোনো দলের সঙ্গে বা নিজেরা আলাদা জোট না করেন, সে ক্ষেত্রে তাদের আসনের বিপরীতে সংরক্ষিত আসনের বণ্টন কীভাবে হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার বলেন, ‘সেটি পরে দেখা যাবে। তারা যদি কিছু না জানায়, তখন সেই পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
