জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৩ সালে সাগরপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার পথে ডুবে মারা গেছে অন্তত ৫৬৯ জন রোহিঙ্গা। সংস্থাটি বলছে, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর দিয়ে মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
জাতিসংঘের এ অঙ্গ সংস্থাটির ভাষ্য, সাগরে রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির সংখ্যা ২০১৪ সালের পর গত বছরই ছিল সর্বোচ্চ। এবার তারা নিজেদের দেশ মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে এবং বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে উন্নত জীবনের আশায় পালাতে চেয়েছিল।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ম্যাথু সল্টমার্শ বলেছেন, আনুমানিক হিসাব বলছে, ২০২৩ সালে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি আটজন রোহিঙ্গার মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সাগরপথ হয়ে উঠেছে আন্দামান ও বঙ্গোপসাগর।
গত মঙ্গলবার জেনেভায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ম্যাথু আরও জানান, নিখোঁজ বা মৃত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ২০১৪ সালের পর থেকে ২০২৩ সালেই সর্বোচ্চ। ২০১৪ সালে ৭৩০ জন রোহিঙ্গা নিহত অথবা নিখোঁজ হয়।
ইউএনএইচসিআরের বরাতে প্রকাশিত আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। যারা মিয়ানমারে রয়ে যায় তাদেরও দেশটির জান্তা সরকার সে দেশের ক্যাম্পগুলোতে আটকে রেখেছে। তাই সুযোগ পেলেই উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার চেষ্টায় কাঠের নৌকায় চেপে বসছে রোহিঙ্গা, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও অনেক।
ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে যখন সাগর মোটামুটি শান্ত ছিল তখন কাঠের নৌকায় করে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের উত্তর কোণে নামে ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা। শুরুর দিকে মুসলিম আবেগ থাকায় ইন্দোনেশীয়রা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখালেও এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।
গত বছরের শেষদিকে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা তীরে ভিড়তে না পারায় ২০০ জন রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর, কারণ দীর্ঘদিন সাগরে থাকার মতো খাবার-রসদ নৌকাটিতে ছিল না।
ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেহ প্রদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বের করে দিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে ছাত্র-জনতা। এমনকি তারা স্থানীয় একটি আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরেও সহিংস বিক্ষোভ করে। এ ধরনের অবস্থান থেকে সরে এসে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
আলজাজিরা বলছে, ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষর করলেও এখন তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে অপারগতা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া জাতিসংঘ কনভেনশনে স্বাক্ষর না করলেও বাংলাদেশের পর সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে দেশটি, যেখানে এখন ১০ লাখ ৮ হাজার রোহিঙ্গা আছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
