ঝুঁকি জেনেও কেন ইসরায়েলে যাচ্ছে ভারতীয় তরুণরা?

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫৭ পিএম

ইসরায়েল নির্মাণ খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য চীন, ভারত এবং অন্যান্য দেশ থেকে ৭০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি শ্রমিকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দেশটিতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

উগ্রডানপন্থী সরকার এখন ইসরায়েলের ক্ষমতায়। কট্টর ইহুদিবাদী নেতাদের নিয়ে চলছে এই সরকার, ফলে ইসরায়েলের শ্রমবাজারে তারা অমুসলিমদের প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত ও সামরিক দিক থেকে ভারত ইসরায়েলের সম্পর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি ইসরায়েলে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ভারতীয় যুবকদের মধ্যে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্য থেকে ইসরায়েলে যেতে পরীক্ষা দিয়েছেন হাজারো তরুণ, সেখান থেকে ১০ হাজার ভারতীয়কে কাজে নেবে ইসরায়েল।

অথচ ইসরায়েল এখন রীতিমতো যুদ্ধে অবতীর্ণ, গাজায় তারা যেমন হামলা চালাচ্ছে তেমনি হামাস-হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর রকেট প্রায়ই হানা দিচ্ছে ইসরায়েলে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হলেও ইসরায়েলে শান্তি আসবে এমনটাও বলা যাচ্ছে না। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে এখনো স্থায়ী বলে কিছু নেই। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েও ভারতীয় যুবকরা ইসরায়েলে যেতে কেন এত আগ্রহী?

বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসা এক যুবকের ইসরায়েল যাওয়ার ইচ্ছার পেছনে হয়তো আছে এই প্রশ্নের উত্তর। গত সপ্তাহে তীব্র ঠাণ্ডায় হরিয়ানার একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছিলেন বিপুল সংখ্যক তরুণ। ইসরায়েলে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে যোগ দেওয়ার চাকরি পরীক্ষা দিতে এসেছিল তারা।

তাদের একজন রনজিত কুমার, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এই তরুণ এখন পর্যন্ত ভারতে রংমিস্ত্রি, দিনমজুর, ওয়ার্কশপ টেকনিশিয়ান কিংবা বেসরকারি সংস্থার জরিপে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। অর্থাৎ পড়ালেখা যথেষ্ট থাকলেও উপযোগী কাজ তিনি পাননি। সব কাজই সমান বলা হলেও কাজের মূল্যায়ন অর্থাৎ বেতন কিন্তু বাস্তবে অসমান। ৩১ বছর বয়সী রনজিত এতসব কাজ করেও দিনে সর্বোচ্চ ৭০০ রুপি আয় করতে পেরেছেন। কিন্তু ইসরায়েল দিচ্ছে মাসে ১ লাখ ৩৭ হাজার রুপি। সঙ্গে আছে বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা।

স্বাভাবিকভাবেই সাত সদস্যের পরিবারকে চালিয়ে নিতে রনজিত ইসরায়েলি অবকাঠামোতে রড বিছানোর কাজে যেতে খুবই আগ্রহী। ইসরায়েলে যেতে আগ্রহী এই যুবক বলেন, ‘ভারতে নিশ্চিত কোনো চাকরি নেই। এদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ৯ বছর আগে স্নাতক পাস করেও আমি আর্থিক স্থিতিশীলতার দেখা পাইনি।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রনজিতের মতো উচ্চশিক্ষার পাটচুকানো অনেক তরুণ তাদের কাঙ্ক্ষিত এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেননি। অনেকেই আবার একটু স্বচ্ছলতার আশায় একাধিক চাকরি করেন। ইসরায়েল যেতে পরীক্ষা দিতে আসা তরুণদের নানা রকম যুক্তি, কারও চাকরি গেছে করোনা লকডাউনে, কারও অভিযোগ প্রশ্ন ফাঁসের কারণে সরকারি চাকরি পাননি, কেউ কেউ দালালের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু যথেষ্ট টাকা দিতে না পারায় যেতে পারেননি।

সঞ্জয় ভার্মা ২০১৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে পুলিশ, প্যারামিলিটারি ,রেলওয়েতে চাকরির জন্য ৬ বছর চেষ্টা করেও সফলতার মুখ দেখেননি। ভাগ্যে ফেরাতে তিনি যেতে যান ইসরায়েলে। ৪০ বছর বয়সী রাম অবতারও ছেলে-মেয়ের উন্নত ভবিষ্যত ও ভাল জীবনের আশায় যেতে চান নিয়মিত যুদ্ধ-সংঘাতের দেশে। তিনি বলেন, ‘ আমরা জানি সেখানে (ইসরায়েল) যুদ্ধ চলছে, আমি মরণে ভয় পাচ্ছি না। আমরাতো এখানেও মরতে পারি তাই না?’

কর্মসংস্থান নিয়ে ভারতের সরকারি তথ্য অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা। ভারত সরকারের পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালে যেখানে কর্মহীনের হার ছিল ৬ শতাংশ সেখানে ২০২১-২২ সালে তা হয়েছে ৪ শতাংশ। তবে বাস্তবতা বলো নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র বাড়লেও কাঠামোবদ্ধভাবে গুছিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ ভারতে এখনো অপ্রতুল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত