নতুন কারিকুলাম একটি দেশের অনুকরণে : রিজভী

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সর্বজনীন নয় বরং কোনো একটি দেশকে অনুকরণ করে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পরনির্ভরশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এবং পুরো জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই শিক্ষা কারিকুলাম চালু করা হচ্ছে। এই শিক্ষা সিলেবাস জাতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দখলের পর শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নৈরাজ্যের ধারাবাহিকতায় প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় নকলের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি ছিল বিগত বছরগুলোতে সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়। এবার যোগ হলো নতুন শিক্ষানীতি ও দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী কারিকুলাম। কথায় আছে, কোনো জাতিকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক হামলা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দরকার নেই। বরং সেই জাতির শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করলেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে নতুন প্রজন্মকে তাঁবেদার বানানো যায়।’

তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষানীতি ও কারিকুলামের মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষাকে সংকোচন করা হয়েছে। ধর্মশিক্ষার নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রয়াসকে চূড়ান্তভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা শিক্ষার নামে যৌনশিক্ষা চালু করে কিশোর মনকে বিকৃত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।’

জন্মান্ধ এক ব্যক্তিকে পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের মামলার আসামি করার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের ওপর কথিত ককটেল হামলার গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছে ৫৫ বছর বয়সী জন্মান্ধ আলমগীর হোসেন মিলনকে। অবৈধ ক্ষমতার মোহে এতটাই অন্ধ, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মিলন হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিন নিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তির পক্ষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালানো সম্ভব? বিচারক কি এই প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছে? বন্য বিচার আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিও পুলিশের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পাননি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত