বিদেশিরা নয় জনগণই ক্ষমতায় বসিয়েছে

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৮ এএম

নির্বাচনের পর আবার বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির ও দাবির জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের ভোটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। চীন, রাশিয়া বন্ধু হলেও কোনো বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায়নি। গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত শান্তি ও গণতন্ত্র সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সমাবেশ থেকে ৩০ জানুয়ারি দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলায় শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সমাবেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি-জামায়াত অগণতান্ত্রিক কর্মকা- করছে দাবি করে এর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ওই দিন বিএনপি রাজধানীসহ সারা দেশে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গতকাল শনিবার দেশের সব মহানগরে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ পাল্টা শান্তি ও গণতন্ত্র সমাবেশ করে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে বেলা ১টার পর থেকে থানা ও ওয়ার্ড শাখার নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হন।

নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহকারে আসেন ঢাকা-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) ও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলও। নির্বাচনের পরে কোনো স্বতন্ত্র এমপির দলীয় মঞ্চে ওঠা এই প্রথম।

বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়। এতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। বিকেল ৫টার কয়েক মিনিট আগে সভাস্থলে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ৫টার পরে তিনি ১৫ মিনিটের মতো বক্তব্য দেন। 

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশিদের ভয় দেখান? ৪১.৮ শতাংশ ভোটারের ভোটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার জনগণের সরকার, নির্বাচিত সরকার। যেখানে ২৮ দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। চীন বা রাশিয়া আমাদের বন্ধু হতে পারে। আমাদের সরকারকে কোনো বিদেশি শক্তি বসায়নি।’

সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি বিদেশিদের ডেকে আনছে বলে দাবি করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের ভয় দেখায়। এদের কোনো দেশপ্রেম নেই। যদি ভালোবাসা থাকত, তাহলে দেশের জনগণকে নিয়ে সমাধান করত। এরা আটলান্টিকের ওপার থেকে নিষেধাজ্ঞা আনতে চায়, ভিসানীতি আনতে চায়। শেখ হাসিনা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পান না। তিনি এ দেশের মানুষ ছাড়া কাউকে পরোয়া করেন না।’

পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনের খেলা শেষ দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন খেলা হবে রাজনীতির। এখন খেলা হবে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, হরতাল, আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। ৩০ তারিখ আবার কালো পতাকা মিছিল। সে দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, আপনারা মহানগর, জেলা, সব উপজেলায় লাল-সবুজ পতাকা হাতে গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা পাহারায় থাকবেন। এই অপশক্তিকে আমরা আর বাড়তে দিতে পারি না। তাদের রুখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

দ্রব্যমূল্য কমাতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কাজ করছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) গোটা মন্ত্রিসভাকে কর্ম পরিকল্পনা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের ডাক দিয়েছেন। তার মন্ত্রিসভার কেউ বসে নেই। সবাই কাজে নেমেছে। ইনশা আল্লাহ এভাবে চললে অচিরেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে সরকার।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি নাকি কালো পতাকা দেখাবে? কাকে দেখাবে? তাদের উচিত ছিল ব্যর্থ নেতাদের কালো পতাকা দেখিয়ে বিদায় করে তৃণমূল নেতাদের আনা। তিনি বলেন, ‘বোকারা কী করে? ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছর বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে হবে।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, এ দেশে নির্বাচন বয়কট করার রাজনীতি আর চলবে না। এটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন চায়। মানুষ এই অপশক্তির বিলীন চায়। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন দেশের মানুষের কাছে সন্ত্রাসী সংগঠন। সন্ত্রাস করে দেশের মঙ্গল করা যায় না, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের পর গোটা পৃথিবী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। বিএনপিকে জনগণ আগেই কালো পতাকা দেখিয়েছে। বিদেশিরা তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। তারা নানা কায়দা করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বিদেশিরা বিএনপিকে লাল পতাকা দেখিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত