দেশের চিকিৎসা নিয়ে মানুষের আস্থা কম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:১২ এএম

স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা নিয়ে মানুষের আস্থা কম থাকায় অনেক মানুষ ভারত, ব্যাংককসহ দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ চলে আসছে ঢাকায়। সবখানেই একটা আস্থাহীনতা কাজ করছে মানুষের মনে।

গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫৪তম বৈঠক, সায়মা ওয়াজেদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগদান এবং সমসাময়িক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে মানুষ দেশে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আস্থার অভাবে না থাকে। আস্থা ফিরিয়ে আনা না গেলে মানুষ দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যাবেই।’

স্বাস্থ্য খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণসহ বেশ কিছু জরুরি কাজ শুরু করে দিচ্ছি। তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মান, ভালো চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় মেশিন বা যন্ত্রপাতি ঠিকভাবে দেওয়া গেলে তৃণমূলে মানুষের আস্থা আসবে।

সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে রাজধানীর বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছি। রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। যে তদন্ত রিপোর্ট হয়েছে এবং হাইকোর্ট থেকে কী রায় দেয়, সেটা আমরা দেখি আগে। তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দেশের অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধ এবং লাইসেন্স ছাড়া যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো হাসপাতাল অবৈধভাবে চলতে পারবে না, সেটা অন্তত আমি হতে দেব না। এ ব্যাপারে আমার কঠোর নির্দেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, যারা এ ধরনের ক্লিনিক চালাচ্ছেন, তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করুন। না হলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব এবং তাদের একটা সময় দেব। হঠাৎ করে আমরা একটা ক্লিনিক বন্ধ করতে পারি না। একটা নিয়ম আছে। আমি সেভাবে এগোব।’

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বসে একটা বার্ষিক পরিকল্পনা করা হবে। যেসব প্রকল্প ও কার্যক্রমে মানুষের উপকার হবে, সে ধরনের প্রকল্প নেব।’

সায়মা ওয়াজেদের বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগদানকে দেশের জন্য বিরাট অর্জন বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সায়মা ওয়াজেদ এই পদে যোগ দেবেন। তিনি কেবল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কন্যাই নন, তিনি অটিজম নিয়ে কাজ করে বিশ^ব্যাপী আলাদাভাবেও একজন পরিচিত মুখ। তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করতে সার্বিক দিকনির্দেশনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী মার্চে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি (এনসিএল) পরিদর্শনে বাংলাদেশে আসবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদল। তারা বাংলাদেশে টিকা পরীক্ষার সক্ষমতা পরীক্ষা করবে।

দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সবচেয়ে জরুরি বলে আমরা একমত হয়েছি। আমাদের গ্রামের অনেক মানুষই পোড়া থেকে বাঁচার কৌশলগুলো জানে না। স্তন ক্যানসারের বিষয়ে গ্রামের মানুষ এখনো লজ্জা পায়। পোড়ার চিকিৎসা ও সচেতনতার কাজে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি। সেখানে ইন্দোনেশিয়ার একটি দলও এসেছিল। তাদের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশে ২০২৬ সালে বার্নের ওপরে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘ওষুধের কাঁচামাল এবং ডলারের দাম বেড়ে গেছে। আমরা সব কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনি। মাত্র ৫ শতাংশ কাঁচামাল দেশে তৈরি হয়। সবকিছু মিলে কোম্পানিগুলো বলছে, তারা অত্যন্ত অসহায়, উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু দাম বৃদ্ধির বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। যদি বাড়াতে হয় তাহলে কমিটির মাধ্যমে বাড়াতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত