শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় শ্রম আদালতে সাজা দেওয়া নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে চারজনকে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত জামিন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল রবিবার এই চারজন কাকরাইলে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আপিল ও জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল শ্রম আদালতের দেওয়া সাজা ও অর্থদন্ডের রায় স্থগিত করে তাদের জামিনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩ মার্চ আপিলের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারক।
ড. ইউনূস ছাড়া দন্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, দুই পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করার অভিযোগে ড. ইউনূসসহ মামলার অপর চার আসামিকে ছয় মাস করে কারাদন্ডদেশ দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক। ১ জানুয়ারি এ রায় ঘোষণা করা হয়।
শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮ এবং ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইনের ৩০৩ (ঙ) ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই আইনের ৩০৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চারজনের সবাইকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদন্ডাদেশ দেন বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা। ওই দিন আপিলের শর্তে তাদের জামিন দেওয়া হয়।
গতকাল ড. ইউনূসসহ চারজন বেলা পৌনে ১১টার দিকে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী আপিল করে জামিনের আরজি জানান। আপিলে সাজা থেকে খালাস চেয়ে ২৫টি যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী।
আদালতে তাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। মামলার বাদী কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ রায়টি অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। বাদী নিজেই জেরায় বলেছেন যে তিনি অভিযোগ করেননি। তবে শাস্তি চেয়েছেন। যেখানে অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, সেখানে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি এ রায় টিকবে না। তারা ন্যায়বিচার পাবেন।’
খুরশীদ আলম খান বলেন, ড. ইউনূসসহ চারজনের সাজার রায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, ‘সাজা স্থগিতের বিষয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। আদেশের অনুলিপি পেলে আগামীকাল (আজ) এ বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হবে।’
মামলা সরকার নাকি শ্রমিক করেছে, প্রশ্ন ড. ইউনূসের আপিল ও জামিন প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. ইউনূস। এ সময় তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার, সরকার বারবার বলছে, সকল পর্যায়ে থেকে বলছে, এই মামলা সরকার করেনি। কিন্তু আপনারা তো (সাংবাদিক) সাক্ষী। আপনারা তো কোনো কিছু বলছেন না। এই মামলা কি সরকার করল, নাকি শ্রমিক করল? এ জবাবটা আমাকে দেন।’ তিনি বলেন, ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর তো সরকারি। শ্রমিক তো কোনো মামলা করেনি, এটা (শ্রমিকেরা মামলা করেছে) তো মিথ্যা কথা। শ্রমিকেরা এর মধ্যে নেই।’
