ঘুমধুম-তমব্রু সীমান্তে পাঁচ স্কুল বন্ধ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:০৪ এএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে নিরাপত্তার কারণে সীমান্তের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে ঘুমধুম ও তমব্রু সীমান্তের কাছে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বন্ধ ঘোষণা দেওয়া স্কুলগুলো হলো বাইশপারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তমব্রু পশ্চিমকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রেজু গর্জনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

তমব্রুর ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছৈয়দুর রহমান হিরার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রবিবার বেলা দেড়টার দিকে মিয়ানমারের সামান্য ভেতরে দুটি যুদ্ধ হেলিকপ্টার এসে মহড়া দিতে থাকলে ঠিক সেই মুহূর্তে বেশ কয়েকটি বিকট শব্দের বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনতে পান তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরের বিদ্রোহীদের ওপর হামলা করার জন্য ওই হেলিকপ্টারের মহড়া। সচরাচর এ রকম যুদ্ধ হেলিকপ্টার সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি দেখা যায়নি। হঠাৎ করে হেলিকপ্টার সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি আসায় বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে থাকা মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি এবং আরসা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিয়ানমার জান্তা সরকারের গুলিবিনিময় হচ্ছে। সীমান্ত ঘেঁষে ওপারে কামানের গোলা নিক্ষেপে এপারের অভ্যন্তরে ছুড়ে আসায় সীমান্তের আশপাশে বসবাসরত লোকজন ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, মিয়ানমার-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে মিয়ানমার অংশে তিন দিনে অর্ধশতাধিক মর্টার শেলের প্রকট শব্দে ৪৭ ও ৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন বাংলাদেশ অংশ কেঁপে উঠেছে। তিনি বলেন, সকালে (গতকাল) মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এতে কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা

ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো বলেন, ‘আমরা যারা এপারে বসবাস করছি, সবাই আতঙ্কে আছি, কখন কোন সময় কী হয়, জানি না। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে।’

মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেও এসে পড়েছে। এ অবস্থায় মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। তিনি গত রবিবার বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীন উখিয়ার পালংখালী বিওপি, নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু বিওপি, ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা এবং টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধীন হোয়াইক্যং বিওপি ও এর সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যসহ অনেক রাজ্যের নানা জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তার অনুগত বাহিনীর লড়াই চলছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির সঙ্গে জান্তার বাহিনীর ক্রমাগত সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে জান্তার বাহিনীর ওপর ব্যাপক হামলা হচ্ছে। আবার রাখাইনের রাজধানী শহর সিত্তের চারপাশের ঘাঁটিগুলো থেকে উচ্ছেদ হয়েছে জান্তার সেনারা।

এর মধ্যে গত রবিবার আরাকান আর্মি জানিয়েছে, মিনবিয়া টাউনশিপে সামরিক জান্তার ‘লাইট ইনফেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৮০’-এর সদর দপ্তর দখল করেছে তারা। জান্তার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই চলছে মারুক ইউ, কিয়াকতাউ, রাথিডং টাউনশিপে।

আরাকান আর্মি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জান্তার বাহিনী এখন আর আমাদের সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা রাখে না এবং জান্তা এখন গোলাবর্ষণ ও আকাশ হামলা চালাচ্ছে।’ গত শনিবার জান্তার হামলায় মারুক ইউ এলাকায় নিহত হয়েছে চার বেসামরিক এবং আহত হয়েছে আরও ২০ জন। বুথিডং এলাকায় ব্যাপক লড়াই চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত