মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ঢাকার বাসে তুলে দেন রোজিনা 

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:২৯ পিএম

ফরিদপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি স্যুটকেসে পাওয়া মরদেহের পরিচয় ও হত্যার কারণ উন্মোচন করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় হত্যার শিকার ব্যক্তির নাম মিলন প্রামাণিক (৩৯)। তিনি পাবনা সদরের নতুন গোহাইবাড়ি মহল্লার কাশের প্রামাণিকের ছেলে। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট এলাকায় ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আর তাকে হত্যা করেন গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লির রোজিনা আক্তার ওরফে কাজল (৩২)।

পুলিশ জানায়, মিলন প্রামাণিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল রোজিনার। এ সুবাদে বিভিন্ন সময় মিলনকে তিন থেকে চার লাখ টাকা ধার দেন রোজিনা। এই টাকা ফেরত না দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে রোজিনার ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয় মিলনকে। পরে মাথা ও পা পেঁচিয়ে একটি লাগেজে (স্যুটকেস) ভরে একটি রিকশায় গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসেন তিনি। সেখান থেকে ৬০০ টাকায় একটি মাহিন্দ্রা ভাড়া করে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে এনে ঢাকাগামী বিকাশ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কেটে স্যুটকেসটি বাসের লকারে তোলা হয়। বাস ছাড়ার সময় ওই নারীকে খুঁজে না পাওয়ায় বাসের লোকজন স্যুটকেসটি বাসস্ট্যান্ডের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে রেখে যান।

পুলিশ সুপার জানান, ওই নারী প্রশিক্ষিত খুনি ছিলেন না। মরদেহ ফেলার  নারী যে রিকশা ও মাহিন্দ্রা ব্যবহার করেছেন সেই চালকদের আটক করা হয়েছে। তাদের হত্যা মামলায় সাক্ষী করা হবে। রোজিনাকে গতকাল সোমবার রাত তিনটার দিকে ঢাকার জুরাইন এলাকা থেকে কদমতলী থানার পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ শামীম হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গত রোববার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শৈলেন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান, কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আবদুল গাফফার, ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) তুহিন লস্কর, পুলিশ পরিদর্শক আবু তাহের, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সুজন বিশ্বাস ও মামলার বাদী এসআই মোহাম্মদ শামীম হাসান উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত