প্রকল্প বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে সরকার

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩২ এএম

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অর্থছাড় এখন সর্বনিম্নে। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মাসভিত্তিক যে তথ্য-উপাত্ত দেওয়া আছে, সেটি ২০১০-১১ অর্থবছর পর্যন্ত। এ তথ্যেও এডিপি বাস্তবায়ন এত কম দেখা যায়নি। অর্থাৎ ১৪ বছরের ইতিহাসে গত ডিসেম্বর মাসে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সর্বনিম্নে। আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

চলতি অর্থবছরে সরকারের এডিপি বরাদ্দ ২ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১ হাজার ৩৯২টি প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ খরচ হয়েছে মাত্র ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত অর্থবছরও এর বাস্তবায়ন ছিল ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে। ওই বছর এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছিল ২৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে ৬১ হাজার ৭৩৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একক মাস হিসেবে গত ডিসেম্বরে বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের বাস্তবায়ন ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। অবশ্য গত বছর তা ছিল ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, এডিপি বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন কৌশল প্রণয়ন করলেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এখনো তাদের বাস্তবায়ন সক্ষমতা সেভাবে গড়ে তুলতে পারেনি।

এদিকে খরচ কম হওয়ার পেছনে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ব্যয়সাশ্রয়ী নীতিকে দায়ী করছেন অনেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, জরুরি না হলে বিদেশ সফর ও গাড়ি কেনা বন্ধ, আসবাব কেনায় আরও সাশ্রয়ী হওয়াসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। এর প্রভাব পড়েছে এই অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের এডিপি বাস্তবায়নে।

দেশের অর্থনীতিতে চাপের পরিস্থিতিতে সরকার গত অর্থবছর প্রকল্পগুলোকে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ শ্রেণিতে ভাগ করে।

চলতি অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দের ৬১ দশমিক ৫৩ শতাংশ সরকারি অর্থায়ন। এর বাইরে ৯৪ হাজার কোটি বা ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশ বিদেশি ঋণ ও ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি বা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে।

বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এবার সরকারি অর্থায়নের বরাদ্দপ্রাপ্ত আইএমইডির দেওয়া তথ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে কম। ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি অর্থের ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বা ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সাম্প্রতিক সরকারি অর্থের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে। ওই অর্থবছরে সরকারি অর্থের ব্যয় হয় ২৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে কম অর্থ খরচ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের মাত্র সাতটি প্রকল্পের জন্য ৯৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও খরচ হয়েছে মাত্র ৩ কোটি টাকা। এটি বরাদ্দের ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।

কম অর্থব্যয়ের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এ মন্ত্রণালয়ের ৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের ১৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ২ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও তারা খরচ করতে পেরেছে মাত্র ২৪৩ কোটি টাকা, যা এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৩২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৯ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে চলতি অর্থবছর। গত ছয় মাসে এ মন্ত্রণালয় মাত্র ৯১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করতে পেরেছে। বরাদ্দের বিপরীতে তাদের খরচ ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি অর্থব্যয় করেছে সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এ বিভাগের ৩টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয় মাসেই তারা খরচ করেছে ১১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বরাদ্দের ৯৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়ে গিয়েছে।

দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ১১ কোটি টাকা, ছয় মাসে তারা ব্যয় করেছে ৯০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বরাদ্দের ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশই ব্যয় হয়েছে এ মন্ত্রণালয়ের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত