‘বছরে দেড় লাখ ক্যান্সার রোগী মারা যায়’

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৩ পিএম

বছরে দেড় লাখ ক্যান্সার রোগী মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ২২ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় আছে। সুতরাং এটা একটা ভয়াবহ অবস্থা।

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এভার কেয়ার হাসপাতাল আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপ’। 

বৈঠকে উপাচার্য বলেন, আমরা ২০৩০ সালে যখন এসডিজি অর্জন করতে যাব তখন সারা বিশ্বের ৭৭ শতাংশ ক্যান্সার রোগী হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আর সারা বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ রোগী থাকবে এই অঞ্চলে। সুতরাং আমরা খারাপ অবস্থায়। 

বৈঠকে ক্যান্সার পরিস্থিতির খারাপ অবস্থার কারণ তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি বলেন, আমরা এই রোগকে অবহেলা করি, এড়িয়ে চলি। একেবারে শেষ ধাপে ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগী আনা হয়, যাকে আর বাঁচানো যায় না। অথচ শুরুতেই নিজেরাই ডায়াগনসিস করতে পারি। সেটা যদি আমরা শিখতাম, তা হলে অনেক রোগীকে বাঁচাতে পারতাম। 

উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন রোগের চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন- কিডনি, হার্ট ও ক্যান্সার। এ জন্য এই তিন রোগের জন্য ৮ বিভাগে আটটি হাসপাতাল করেছেন। এখন দরকার রোগী অনুপাতে রেডিওথেরাপী সেন্টার। রোগীরা আস্থাহীনতার জন্য চিকিৎসার জন্য পাশের দেশে চলে যায়। বাইরে যাওয়া রোধ করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে দেশের আর্থিক ক্ষতি হবে। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, আমরা যদি প্রথম অবস্থাতেই ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারি, তাহলে শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ক্যান্সার পরিবর্তি চিকিৎসা (কেমোথেরাপি) ধাপগুলো দেশের মানুষের জন্য একটা বড় চাপ। এর চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। তাই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। 

বৈঠকে এভারকেয়ার হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ডা. বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য ও ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ মত দেন, রেডিয়েশন চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত জনবলের দিকে নজর দেয়া জরুরি।  দেশে প্রতি বছর ৮-১০ হাজার বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা দরকার হয়। এরজন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক প্রয়োজন। 

বৈঠকে চেয়ারপার্সন ছিলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিস) ডা. আরিফ মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজী বিভাগের অধ্যাপক ডা. অখিল রঞ্জন বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজী বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. ইসমাইল হোসেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী ও বায়োমেড মলিকিউলার ডায়াগনস্টিকস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. তাসনীম আরা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হাসপাতালের (ঢাকা) অধ্যাপক ডা. রাজু তিতাস চাকো, অধ্যাপক ডা. রায়হান হোসাইন, অধ্যাপক ব্রি.জে. (অব.) ডা. এস এম মাহবুবুল আলম, ডা. আরমান রেজা চৌধুরী, ডা. মিজানুর রহমান, ডা. ডা. ফেরদৌস শাহরিয়ার সাঈদ ও হাসপাতালের চিফ মার্কেটিং অফিসার ভিনয় কাউল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত