ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রীকে বাঁচাতে সম্বল বিক্রি

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৯ পিএম

রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ২ নম্বর নারী ওয়ার্ডে প্রবেশ করতেই একটি শয্যার দিকে নজর পড়ে। যেখানে ক্যানসার আক্রান্ত এক নারীর সঙ্গে গল্প করছেন মধ্যবয়সী পুরুষ। তাদের গল্পের আবহ বলে দিচ্ছে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড ভালোবাসা। কৌতূহল মেটাতে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াই এবং নিজের পেশাগত পরিচয় দিই। জানতে পারি বোন ম্যারো বা হাড়ের মজ্জা ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী সালমা বেগমকে নিয়ে ১ সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি আলমগীর হুসেন।

তাদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়। আলমগীর হুসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এক বছর আগে সালমার পিঠে ব্যথা দেখা দেয়। চিকিৎসক দেখালে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিছুদিন পর পুনরায় ব্যথা দেখা দিলে ঢাকায় নিয়ে আসি। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও চেম্বারে ডাক্তার দেখাই। এক পর্যায়ে তার ক্যানসার ধরা পড়ে।

এরপর আলমগীর তার স্ত্রী সালমাকে নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে ২ মাসের মতো ভর্তি ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হলে দেশে ফিরে আসেন। এরপর আবার সালমা অসুস্থ হয়ে পড়লে পুনরায় ভারতে যান। সেখানে তার অপারেশন ও করা হয়। সব মিলিয়ে তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।

আলমগীর হুসেন বলেন, জমানো টাকা ছিল না। সালমার চিকিৎসার টাকা জোগান দিতে গিয়ে রংপুর ঢাকা সড়কে চলাচলকারী একমাত্র বাসটি সাড়ে ৯ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিই। সেই টাকা দিয়ে অপারেশনসহ যাবতীয় চিকিৎসা করাই। এখন ৬ সার্কেল কেমোথেরাপি দিতে এই হাসপাতালে ভর্তি হই।

কথা বলতে গিয়ে নিজেদের অনেক গল্পই শোনালেন এই দম্পতি। আলমগীর হুসেনের সম্পর্কে মামাতো বোন সালমা বেগম। ৪ বছরের ভালোবাসা থেকে ২০০৮ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। এই দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন।

সালমা বেগম বলেন, সেই স্কুলে পড়ার সময় থেকে আমাদের প্রেম হয়। ক্যানসার ধরা পড়ার পর খুব ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু আলমগীর আমাকে ভয় সাহস দেয়। আমার চিকিৎসা করাতে একমাত্র বাস বিক্রি করে দিল। চিকিৎসায় প্রচুর খরচ হচ্ছে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত