হৃদরোগীরা কখন ব্যায়াম করবেন

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৩ এএম

প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ হৃৎপিন্ডের বৈকল্য সমস্যায় ভোগেন। সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে এই হার ১০ শতাংশের বেশি। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, যারা শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন, তাদের ছয়জনের একজন হার্ট ফেইলিওরের রোগী।

হৃদরোগে আক্রান্তদের জীবনাচরণ : হার্ট ফেইলিওর রোগীদের স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ জরুরি। ডায়াবেটিস থাকলে ডায়াবেটিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে ছাড়তে হবে। হার্ট ফেইলিওরের রোগীকে পানি মেপে খেতে হয়, তাতে হৃৎপিন্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে। যারা ক্রনিক হার্ট ফেইলিওরে ভুগছেন, তাদের দৈনিক দেড় থেকে দুই লিটারের বেশি পানি খাওয়া উচিত নয়। খাবারে বাড়তি লবণ বাদ দিতে হবে। প্রতিদিন যতটা সম্ভব ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কে কতটুকু ব্যায়াম করতে পারবেন, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। একদমই ব্যায়ামে অভ্যস্ত না হলে শুরুতে কয়েক মিনিটের হাঁটাহাঁটির চর্চা করতে হবে। এই হাঁটাহাঁটি প্রতিদিন পাঁচ-সাত মিনিট করে বাড়াতে হবে। এভাবে মাসখানেকের মধ্যে প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা হাঁটায় অভ্যস্ত হতে হবে। রক্তনালিতে রিং লাগানো হলে বা বাইপাস অপারেশন হয়ে থাকলেও একই নিয়মে ব্যায়াম করতে হবে বা হাঁটতে হবে।

শীতে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে । কী কারণে হার্ট ফেইলিওর হয়েছে, ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি কারণটি হয় হৃৎপিন্ডের ভালভের অসুখ, জন্মগত হৃদরোগ বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেশি ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা যাবে না।

ব্যায়ামকালীন অজ্ঞান হওয়ার ইতিহাস থাকলে ব্যায়াম করা যাবে না। রোগী ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করবেন ততটুকু, যতটুকুতে কোনো শ্বাসকষ্ট না হয়, বুকে চাপ বা ব্যথা না হয় অথবা বুক ধড়ফড় অনুভূত না হয়। মনোবল হারানো যাবে না। হৃৎপি-ের রোগে সুস্থ থাকার জন্য মনের সাহস ও আত্মবিশ্বাস খুব দরকার। নিজেকে চাপমুক্ত রাখতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ

 হার্ট ফেইলিওরের রোগীর নিয়মিত ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক যেভাবে পরামর্শ দেবেন, সেভাবে চেকআপ ও ওষুধপত্র ঠিক করে নিতে হবে। হার্ট ফেইলিওর চিকিৎসার ফলাফল নির্ভর করে হার্ট ফেইলিওরের কারণের ওপর। কারণ নির্ণয় করে নির্দিষ্ট চিকিৎসায় তা সম্পূর্ণ দূর করতে পারলে খুব ভালো। তবে হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিওমায়োপ্যাথির ক্ষেত্রে চিকিৎসা আজীবন চালানো লাগে। আবার স্ট্রেস কার্ডিওমায়োপ্যাথি ও গর্ভকালীন কার্ডিওমায়োপ্যাথিতে হার্ট ফেইলিওর হলে সাধারণত চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। হার্ট ফেইলিওরের শেষ চিকিৎসা হৃৎপিন্ড প্রতিস্থাপন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত