যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক অধ্যাপকের প্রাইভেট কার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের মিছিলের মধ্যে ওই শিক্ষকের গাড়ির পেছনের গ্লাস ভাঙচুর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ছাত্রলীগের মিছিল চলাকালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করে প্রক্টরের কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন ওই অধ্যাপক। মঙ্গলবার তিনি প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুব্রত মন্ডল। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম রায়হান রহমান রাব্বী। তিনি যবিপ্রবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত মন্ডল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরের উদ্দেশ্যে আমি আমার প্রাইভেট কারে আরও তিনজন শিক্ষককে নিয়ে যাচ্ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবনের সামনে এগোতেই ছাত্রলীগের মিছিলের মধ্য থেকে আমার গাড়ির উপর আঘাতের শব্দ পাই। গাড়ি থামিয়ে দেখি গাড়ির পেছনের গ্লাস ভাঙা। যেভাবে গাড়ির গ্লাস ভেঙেছে সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মী রায়হান রাব্বী জড়িত। সুষ্ঠু তদন্তে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করছি।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রাব্বি বলেন, ‘আমি ক্যামেরা হাতে মিছিলের ভিডিও করছিলাম। পেছন থেকে সামনে যাওয়ার সময় যখন স্যারদের গাড়ির পাশে আসি তখন হুট করে পেছন থেকে জোরে ধাক্কা আসে। এ সময় আমিসহ আরও দুই-একজন গাড়ির উপর পড়ে যাই। এ সময় আমার হাতের কনুইয়ের গুতা লেগে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায় ও আমার হাতের কিছু অংশ কেটে যায়। এটি সম্পূর্ণ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমি যদি ইচ্ছে করে করতাম তাহলে আমার হাতের মুষ্টিতে কাটা দাগ থাকত।’
যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সোহেল রানা বলেন, আজকে আমরা নির্বাচন পরবর্তী প্রথম আনন্দ মিছিল করছিলাম। এ সময় রাস্তায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দাঁড়িয়েছিল এবং সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাস এসে দাঁড়িয়ে যায়, এতে করে রাস্তা আরও ছোট হয়ে যায়। আজকের মিছিলে অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, এর মধ্যে আমাদেরই এক ছোটভাই রায়হান রহমান রাব্বী ক্যামেরা নিয়ে পেছন থেকে সামনে দৌড়ে যাওয়ার সময় ধাক্কা লেগে সেসহ আরও কয়েকজন পড়ে যায় । এ সময় তার হাতের কনুই লেগে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, সে ইচ্ছেকৃত ভাবে এমন কিছু করেনি। এ ঘটনায় আঘাত লেগে তার হাতের কনুইও কেটে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির পর আমরা অধ্যাপক ড. সুব্রত মন্ডল স্যারকে তার ক্ষতিপূরণ দেব বলে মিটমাট করে নিয়েছি। তারপরেও স্যার কেন অভিযোগ দিলেন সেটি আমার জানা নেই।
যবিপ্রবি প্রক্টর ড. হাসান মো. আল-ইমরান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষক আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
পুলিশ পরিচয়ে বিয়ে, শ্বশুরবাড়ি এসে ধরা
সেন্টমার্টিনে নিখোঁজ বিসিএস ক্যাডার