থমথমে জাবি, হচ্ছে নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৮ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গত শনিবার রাতে এক দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে আবাসিক হলে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তি কার্যকর করার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন এবং শিক্ষার্থীর ধর্ষণ, গণরুমসহ সব অপরাধ বন্ধ করা এবং আবাসিক হল থেকে অছাত্রদের বের করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগান।

এর আগে বেলা আড়াইটায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক মতবিনিময় সভা করেন। সভাটি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। সভা শেষে একটি সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ঘোষণা দেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে প্ল্যাটফর্মের কমিটি ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাহসিন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা। এই জায়গায় ধর্ষণের মতো একটি ঘটনা আমরা মানি না, মানব না। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তি কামনা করি। পরে যেন এ রকম কোনো ঘটনা না ঘটে তার নিশ্চয়তা চাই।’ একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার ইতি বলেন, ‘আমরা জেনেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ দিনের মধ্যে অছাত্রদের হল থেকে বের করার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় এ রকম আলটিমেটাম দিয়েছে। কিন্তু একবারও কার্যকর করতে পারেনি। তাই এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতক্ষণ না পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী বলেন, ‘গতকাল জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ধর্ষণের ঘটনায় এত দিন তো কমিটি গঠন করা আছে, সেই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলের দায়িত্বে রয়েছে এমন কেউ নেই। অছাত্রদের আবাসিক হল থেকে বের করার জন্য প্রশাসন যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তার কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, সেটা দেখে আমরা সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এ সময় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, ‘গতকাল সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে অবৈধ শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল থেকে আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে বের করবে। আমরা আগামীকাল থেকেই প্রতিটি হলে মনিটরিং সেল গঠন করব।’

ধর্ষণের প্রতিবাদে রাবিতে বিক্ষোভ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ক্রিয়াশীল আটটি বাম ছাত্রসংগঠন। গতকাল বেলা ১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিলে ছাত্রলীগ ও শেখ হাসিনাবিরোধী স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রলীগ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রসংগঠনগুলো। তবে বাধা প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

মিছিলে ‘জাবিতে ধর্ষক কেন, শেখ হাসিনা জবাব চাই’, ‘ধর্ষক তৈরির কারখানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, শেখ হাসিনা জবাব চাই’, ‘ছাত্রলীগের কালো হাত, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’, ‘রুখে দিতে ধর্ষণ, রাবি করো গর্জন’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে সংগঠনগুলো। এমন সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব ও তার অনুসারী নেতাকর্মীরা সেখানে এসে তাদের ঘিরে ধরে ‘আপত্তিকর’ স্লোগানের প্রতিবাদ করেন। তবে বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক অধিকারে ‘বাধা’ প্রদান হিসেবে বলছে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রসংগঠনগুলো।

বাধা প্রদানের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব বলেন, ‘জাবিতে ধর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরাও এর প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু এর দায় তো ব্যক্তির, কোনো সংগঠনের নয়। তাই তারা যখন ছাত্রলীগ ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল, আমি তার প্রতিবাদ করেছি এবং এটাও বলেছি তোমরা যতবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দিবা, আমি ততবার তোমাদের সামনে এসে এর প্রতিবাদ করব। এই বলে আমি চলে এসেছি। আমি তাদের কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করিনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক এক নারী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আমরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করি। এতে আমরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকি। এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গালিব এসে আমাদের বলে, ছাত্রলীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া যাবে না। ’

রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি রায়হান আলী বলেন, ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ আমাদের বাধা দিতে আসে। আমাদের এখন বিচার দিতে হয় শেখ হাসিনাকে। কারণ বিচার বিভাগ তার আয়ত্তে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত