শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিদেশ যেতে হলে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালকে জানিয়ে যেতে হবে বলে আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।
এ মামলার বাদীপক্ষ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা এ-সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এ মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড স্থগিতের আদেশ বাতিল চেয়ে গত রবিবার হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। গতকাল হাইকোর্ট শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড স্থগিত থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রম আইনের মামলায় গত ২৮ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ চারজনের দন্ড স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।
ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেন্টেন্সড (কারাদন্ড ও অর্থদন্ড) ও কনভিকশনের (দোষী সাব্যস্ত) মধ্যে পার্থক্য হলো, কনভিকশন চলমান। যতক্ষণ পর্যন্ত না আসামি খালাস পান, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি স্থগিত হয় না হাইকোর্ট এটিই বলতে চেয়েছেন। আমরা ট্রাইব্যুনালে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড স্থগিতের আদেশ পেয়েছিলাম। এ আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।’ তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসসহ দন্ডিত চারজনকে বিদেশ যেতে হলে আদালতকে অবহিত করে যেতে হবে বলে আদেশ হয়েছে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মনে করি যেহেতু আদালতকে জানিয়ে বিদেশে যেতে হবে, সেহেতু এটি অনুমতির মতোই। অর্থাৎ আদালতের অনুমতি ছাড়া তারা বিদেশে যেতে পারবেন না।’ তিনি বলেন, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ থাকবে বলে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করার অভিযোগে গত ১ জানুয়ারি ড. ইউনূস, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, দুই পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে ছয় মাস করে কারাদন্ড ও অর্থদন্ডাদেশ দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৮ জানুয়ারি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ২৫ যুক্তিতে আপিল করে জামিনের আবেদন করেন চারজন। আদালত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তাদের জামিন দেয়। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত শ্রম আদালতের দেওয়া রায়ে কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের অংশটুকু স্থগিত করে ট্রাইব্যুনাল। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে বাদীপক্ষ।
