ক্যানসার হলো শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত কোষের বৃদ্ধি। এটি এক ধরনের অসংক্রামক ব্যাধি। কোনো কারণে শরীরে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি দেখা দিলে যে শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা উপসর্গ দেখা যায় সেটিই ক্যানসার। ক্যানসার এক ধরনের সমষ্টিগত রোগ। একই অঙ্গে কয়েক ধরনের ক্যানসার হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে রোগের চিকিৎসা নির্ণয় পদ্ধতি এবং জটিলতা সবই ভিন্ন ধরনের হতে পারে।
কেন হয় : ক্যানসারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ শনাক্ত করা যায়নি। কিছু ক্যানসার জিনের মিউটেশনের জন্য হতে পারে, অস্বাভাবিকতার কারণে হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, অতিবেগুনি রশ্মি ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ, বেঞ্জিন, এসবেস্টস, ভারী ধাতু, যেমন লেড ইত্যাদির সংস্পর্শ ক্যানসারের জন্য দায়ী।
এ ছাড়াও অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণের কারণে মানুষ বেশি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের আর একটি বড় কারণ। বেশিরভাগ ফুসফুস ক্যানসারের জন্য দায়ী ধূমপান। তা ছাড়া মদ্যপান, শারীরিক পরিশ্রম না করা, অতিরিক্ত চিনি বা লবণ গ্রহণ ক্যানসার সৃষ্টির কারণ। কিছু কিছু জীবাণুও ক্যানসারের জন্য দায়ী। আবার খাদ্যাভ্যাসের কারণেও অনেক ক্যানসার হয়।
ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয় : ক্যানসার চিকিৎসায় সফলতা অনেক ক্ষেত্রে শতভাগ। বেশিরভাগ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে তার চিকিৎসা করে ভালো হয়ে ওঠা সম্ভব। অনেক ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা যায়। কিন্তু স্ক্রিনিং সম্পর্কে মানুষের অসচেতনতার কারণে দিন দিন ক্যানসারের জটিলতা ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ক্যানসারের পরিণতি কী হবে এ বিষয়টি নির্ভর করে কোন ধরনের ক্যানসার হয়েছে, সেটি কোন পর্যায়ে আছে, রোগীর বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা এ রকম নানা বিষয়ের ওপর। ক্যানসার নিয়ে সচেতনতার অভাব, শনাক্তকরণে বিলম্ব হওয়া, যথাযথ চিকিৎসা না নেওয়া, চিকিৎসা গ্রহণ করা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এসব কারণে ক্যানসারে মৃত্যু অনেক বেশি।
ক্যানসার প্রতিকার করতে হলে আসলে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ক্যানসারের বেশিরভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা এখন দেশেই হচ্ছে। এ ছাড়া সব ধরনের ক্যানসার চিকিৎসাই যে ব্যয়বহুল, এ ধারণাও ঠিক না।
প্রতিরোধে সচেতন থাকুন : ক্যানসার জটিল এবং ব্যয়বহুল রোগ হলেও অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য। কিছু কিছু ক্যানসারের ভ্যাক্সিন গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় পুরোপুরি প্রতিরোধ সম্ভব। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে ক্যানসারে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
