কুড়িগ্রামে সড়কে মোটরসাইকেলের সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী নেতা এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দুর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের খরিলগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শরিফুল ইসলাম সোহান (৪০) নামের ওই ব্যবসায়ী কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। তিনি শহরের হাটির পার এলাকার মৃত আমজাদ হোসেন বুলুর ছেলে।
সোহানের বন্ধু খন্দকার রেদোয়ান মাহমুদ বলেন, ‘সোহানসহ আমরা তিন বন্ধু শহরের অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎই একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের গাড়ির সামনে এসে ছিটকে পড়ে। তখন আমরা আহত মোটরসাইকেল আরোহী দুজনকে উদ্ধার করে একটি অটোতে করে হাসপাতালে পাঠাই। পরে আমরা শহরের দিকে আসার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে এসে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দুসহ তার দলবল আমার জিপ গাড়ির পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা বলছিলেন, আমরা নাকি মোটরসাইকেলকে সাইড দিইনি। এ কথা বলে আমার বন্ধু সোহানকে মারতে শুরু করে তারা। এতে গুরুতর আহত হয় সোহান। পরে ছাত্রলীগ নেতা নিজেই আমাদের নামিয়ে দিয়ে গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালের সামনে ছাত্রলীগ নেতা ও তার দলবল আবারও সোহানকে মারধর করে। আমরা এসে আহত সোহানকে হাসাপাতালে নিলে চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।’
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম সোহানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়. ‘শরিফুল ইসলাম সোহানের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
