মুক্তিযোদ্ধার বয়স

হাইকোর্টের রায়ে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৭ এএম

১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণসংক্রান্ত সরকারের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে স্থিতাবস্থা দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) শুনানির জন্য গ্রহণ করে এ আদেশ দেওয়া হয়। গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছে।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত আদেশের বরাত দিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনানিকালে রিট আবেদনকারীরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ভাতা পেতে থাকবেন।’

২০১৬ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক গেজেটে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৩ বছর। এরপর ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি পরিপত্রের মাধ্যমে ওই গেজেট সংশোধন করে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১২ বছর ৬ মাস। এ  দুটি গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২ (১১) ধারা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের বিভিন্ন সময়ে ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা রিট আবেদন করেন। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট সরকারের পরিপত্রের বৈধতা নিয়ে রুল দেয়। রুলের শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ১৯ মে হাইকোর্ট মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স নির্ধারণের পরিপত্রকে অসাংবিধানিক, অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করে রায়ে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণের বিষয়টি বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। 

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে গেলেও একই বছরের জুনে আপিল বিভাগ তাতে কোনো আদেশ দেয়নি (নো অর্ডার)। এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। গতকাল বিষয়টি শুনানিতে আসে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত