এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় পাসে এগিয়ে মেয়েরা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৮ এএম

দেশে এ বছর এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪৯ হাজার ৯২৩ জন।

এবার পুরুষদের চেয়ে নারী পরীক্ষার্থীরা বেশি উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল ৪০ শতাংশ। উত্তীর্ণদের ২৯ হাজার ৪৬৬ জন নারী, যা মোট উত্তীর্ণের ৫৯ শতাংশ ও ২০ হাজার ৪৫৭ জন পুরুষ, যা মোট উত্তীর্ণের ৪১ শতাংশ।

গতকাল রবিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মহাখালীর পুরাতন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা সামন্ত লাল সেন এই ফল ঘোষণা করেন।

এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে সারা দেশে প্রথম হয়েছেন তানজিম মুনতাকা সর্বা। তিনি রাজধানীর হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। রাজধানীতে থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের পরীক্ষায় ছেলেদের থেকে মেয়েদের পাসের হার বেশি। আমাদের বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। সেভাবেই তিনি কাজ করছেন। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলেও নারীর অগ্রযাত্রা লক্ষ করা গেল।’

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ৪ হাজার ৩৭৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ জন। অনুপস্থিতির হার ছিল ২ শতাংশ। পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল ৪০ শতাংশ। সে অনুযায়ী এ বছর ৪৯ হাজার ৯২৩ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন।’

এ বছর (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় উত্তীর্ণদের সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি শুরু হবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। চলবে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে অফিস চলাকালীন সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে নির্বাচিত ভর্তিচ্ছুদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য অনলাইন আবেদন গ্রহণের বিজ্ঞপ্তি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বছর ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের ৫ হাজার ৩৮০টি আসনে এবং ৬৭টি অনুমোদিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৬ হাজার ২৯৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল প্রণীত নীতিমালার শর্তানুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ও এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ থেকে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে অর্জিত স্কোরের ভিত্তিতে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী ৫ হাজার ৩৮০ জন (মেধা কোটায় ৫০৭২, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৫৬৯ ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসনের ৩৯ জন) পরীক্ষার্থীদের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ জামাল ও অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান ও সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত