রপ্তানিকারকদের আপত্তির মুখে প্রজ্ঞাপন জারির দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও নতুন বাজারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত। এর ফলে এই তিন দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবেন রপ্তানিকারকরা। এ ছাড়া শার্ট, টি-শার্ট, জার্সি, জ্যাকেট, ব্লেজার, ট্রাউজার, স্যুটসহ পাঁচটি এইচএস কোডের পোশাক রপ্তানি থেকে নগদ সহায়তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে সরকার। গতকাল সোমবার নতুন এক সার্কুলারে এ সংশোধনীর কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা কমানোর পাশাপাশি নতুন বাজারের আলোচিত তিনটি রপ্তানি গন্তব্যকে প্রচলিত বাজারের আওতাভুক্ত করা হয়েছিল। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রচলিত বাজারে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া হয় মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ, যেখানে নতুন বাজারে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এর আগে গত রবিবার নগদ সহায়তা প্রত্যাহারের পূর্বঘোষিত সার্কুলারে সংশোধনী এনে কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতকে আবারও নতুন বাজার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এ বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সংশোধনী এনে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ৩০ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনটি চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছিল। সোমবারের প্রজ্ঞাপনে সেটি পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আগে প্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি করে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা পাওয়া যেত, যা গত ৩০ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এ ছাড়া অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা ৪ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। নগদ সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার এসব সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। তবে অপ্রচলিত বাজারের তালিকা থেকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে রপ্তানিকে প্রচলিত বাজারের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এতে অপ্রচলিত বাজারের ওই তিন দেশে পোশাক রপ্তানি করে ৩ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা পাওয়া যেত। তবে গতকাল তা সংশোধন করায় নতুন বাজার হিসেবে এসব দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ করে নগদ সহায়তা পাবেন রপ্তানিকারকরা।
অপ্রচলিত বাজারে ২০২৩ সালে ৮৮৭ কোটি ডলারে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যার মধ্যে ৩৮৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৪ শতাংশই আসে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত থেকে। রপ্তানিকারকদের প্রচেষ্টায় গত কয়েক বছরে এই তিনটি দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। ২০২৩ সালে জাপানে ১৬৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়, যা ২০১৯ সালের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি। গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয় ১২৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক, যা পাঁচ বছর আগের চেয়ে ৮৫ শতাংশ বেশি। এ সময়ে ভারতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯০ শতাংশের বেশি। গত বছর ভারতে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয় ৯১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এদিকে গত ৩০ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে ৫ এইচএস কোডের পোশাক রপ্তানিতে দেওয়া নগদ সহায়তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল, যেখান থেকে পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ের ৫৫ শতাংশের বেশি আসে। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে এটিও প্রত্যাহার নেওয়া হয়েছে। এর মানে হচ্ছে ওই ৫ এইচএস কোডের পণ্যগুলো রপ্তানি করে আবারও নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে। ওই ৫ এইচএস কোডের পণ্যের মধ্যে আছে পুরুষ ও বাচ্চা ছেলেদের জন্য নিট বা ক্রশেট শার্ট, টি-শার্ট, ভেস্ট, জার্সি, পুলওভার, কার্ডিগান, জ্যাকেট, ব্লেজার, ট্রাউজার, স্যুট ও সমজাতীয় পণ্য। পণ্যগুলোর এইচএস কোডগুলো হলো ৬১০৫, ৬১০৭, ৬১০৯, ৬১১০ ও ৬২০৩।
বিজিএমইএর তথ্যমতে, এ পাঁচটি হারমোনাইজড সিস্টেম (এইচএস) কোডভুক্ত আইটেম ২৫ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জনে ভূমিকা রেখেছে, যা গত অর্থবছরে হওয়া মোট রপ্তানির ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির মধ্যে যা ছিল ৫৫ দশমিক ২২ শতাংশ।
