শিল্পকে লক্ষ্য করে যখন শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়, তখন এক দল তৈরি হয় ওই সুবিধার অপব্যবহারের জন্য। এতে যে শিল্পকে সুবিধা দেওয়া হয়, তারাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। গতকাল সোমবার এনবিআরের প্রাক বাজেট আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার মানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।
আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, যেসব কেমিক্যাল শুধু উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, সেখানে মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক থাকলে সেগুলো অবশ্যই আমরা বিবেচনা করব। তবে নিশ্চিত করতে হবে ওই কেমিক্যাল আবার অন্য জায়গায় ব্যবহৃত না হয়। খাওয়ার লবণ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট নিয়ে এ রকম সমস্যার কথা শুনছি আমরা।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশীয় উৎপাদিত পণ্য চামড়া ও কৃষিজাত পণ্যে কীভাবে আরও ভ্যালু অ্যাড করা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ এখানে অনেক বেশি ভ্যালু অ্যাড করার সুযোগ রয়েছে। এখানে ট্যাক্স-ভ্যাট একটা সমস্যা আছে। চামড়ার ক্ষেত্রে ট্যাক্স-ভ্যাটের চাইতে কমপ্লায়েন্সের কারণে বাজার না পাওয়ায় বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।
বাজেট আলোচনায় বারভিডার প্রেসিডেন্ট মো. হাবিব উল্লাহ ডন গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ১০ থেকে ১৫ সিটের মাইক্রোবাসের ওপর থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ এবং অবচয় হার ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এদিন আরেক আলোচনায় বন্ড সুবিধার পরিবর্তে রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত শিল্প কাঁচামালের ওপর ১ শতাংশ কর আরোপের দাবি জানিয়েছে লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি)। সংগঠনটির দাবি, বন্ড ব্যবস্থাপনা জটিল হওয়ায় প্রকৃত রপ্তানিকারকরা সুবিধা নিতে পারে না।
