বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আত্মকাহিনি

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৫০ এএম

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে দেশের মানুষ দেখল তারা বিজয়ী হয়েছে বটে কিন্তু তার জন্য দিতে হয়েছে অপরিসীম মূল্য। অভাব, দারিদ্র্য, আর ধ্বংসস্তূপ শুধু নয়, পাকিস্তানি শাসকরা তাদের প্রিয়ভাজনদের দিয়ে হত্যা করিয়েছিল এই দেশের বুদ্ধিজীবীদেরও। এই অবস্থায় প্রয়োজন ছিল জাতি গঠনের। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে অশিক্ষার বিরুদ্ধে, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াইও অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। সর্বাঙ্গীণ মানবিক বোধসম্পন্ন অগণিত মানুষ ছাড়া একটি জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আর এমন মানুষ তৈরি করতে প্রয়োজন শিক্ষার আলো, সংস্কৃতির আলোর প্রসার। কারণ শিক্ষার আলো দিয়েই অশিক্ষার অন্ধকারকে এবং সংস্কৃতির প্রভা দিয়ে কুসংস্কারের বেড়াজালকে ছিন্ন করা যায়। এই কাজটি করতে শিক্ষাবিদ অধ্যপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ গড়ে তোলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে তার স্বপ্ন, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং টানাপড়েনসমূহ তুলে ধরেছেন তার ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও আমি’ নামক বইয়ে। বলা হয়ে থাকে, বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না। এর অন্যতম কারণ হলো, তার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা নেই। স্বাধীন বাংলাদেশে যে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়ে দশকের পর দশক জাতি বিনির্মাণে অবদান রেখে চলেছে তার মধ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র স্বমহিমায় উজ্জ্বল। কীভাবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘজীবী হলো এবং জাতিগঠনে এখনো কাজ করে চলেছে তার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে এই বইটিতে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও আমি বইটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জার্নির একটি লিখিত দলিল। যা পরিস্ফুটিত হয়েছে জার্নাল, সাক্ষাৎকার এবং বক্তৃতার মাধ্যমে। এর পাতায় পাতায় রয়েছে অন্তর্দৃষ্টির ছোঁয়া। বইটি এ কারণে সবার পড়া দরকার। কিছু বই থাকে যেগুলো মানুষের চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই বইটা সে রকম একটা বই। আশির দশক থেকে শূন্য দশক পর্যন্ত যত কথা বলা হয়েছে এই দেশকে নিয়ে তা এই একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের মাঝামাঝি সময়েও ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক।

বইয়ের এক জায়গায় লেখক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পঞ্চাশ বছর টিকে থাকা দরকার। কারণ যেই প্রতিষ্ঠান পঞ্চাশ বছরে কিছু করতে পারে না সেটা পাঁচশো বছরেও কিছু করতে পারবে না। আর যেটা পারার সেটা পঞ্চাশ বছরেই পারবে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ৪৫ বছর টিকে আছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পাঠাভ্যাসে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। সে অর্থে প্রতিষ্ঠানটি অনেক কিছুই করেছে। আরও পাঁচ বছর টিকে থাকবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তার আগেই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশ গড়ার জন্য যেমন প্রতিষ্ঠান দরকার ছিল এটি তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান এবং জাতি বিনির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক ভূমিকাই রেখে চলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত