রাজধানীতে একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপের প্রধানসহ ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাপাতি, রামদা, চাকুসহ দেশি বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
কিশোর গ্যাংয়ের এসব সদস্যের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত শুক্রবার মোহাম্মদপুর, আদাবর, হাজারীবাগ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের এসব সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ‘পাটালি’ গ্রুপের’ পাঁচজন, ‘লেভেল হাই’ গ্রুপের ছয়জন, ‘চাঁন’ গ্রুপের ছয়জন, ‘লও ঠ্যালা’ গ্রুপের পাঁচজন,‘মাউরা ইমরান’ গ্রুপের সাতজন, বাকি সাতজন অন্য গ্রুপের সদস্য। প্রতিটি গ্রুপে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পাটালি’ গ্রুপটি সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজিবের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের কারণে এখন দুই থেকে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। ‘লেভেল হাই’ গ্রুপটি শরিফ ওরফে মোহনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা মোহাম্মদপুর, আদাবর, বেড়িবাঁধ ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাত। গ্রেপ্তার গ্যাংয়ের সদস্য গাড়ির হেলপার ও চালক, দোকানের কর্মচারী, নির্মাণশ্রমিক, পুরাতন মালামাল ক্রেতা, সবজি বিক্রেতা বিভিন্ন পেশার ছদ্মবেশে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করত।
ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, র্যাব-২ গত এক বছরে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের বেশিরভাগই কোনো না কোনো গ্যাং গ্রুপের সদস্য। এসব গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছেড়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে আসছে। এর মাধ্যমেই তারা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই করে আসছে।
কিশোর গ্যাং দমনে গণমাধ্যম ও স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়ে র্যাবের এই অধিনায়ক বলেন, গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-২ নিয়মিত কাজ করে আসছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং দমনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, র্যাব-২-এর যোগাযোগের নম্বরগুলোতে কিশোর গ্যাং গ্রুপের কর্মকাণ্ড বা তাদের তৎপরতার তথ্য ও ভিডিও দিয়ে সহযোগিতা করবেন। যারা তথ্য দেবেন তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।
প্রতিটি কিশোর গ্যাং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কিশোর গ্যাং সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হতে তদন্ত করতে হয়। আমাদের তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো দলের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
