ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০৯ এএম

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণিতে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুল ও নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার এমন প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৬ মার্চ ধার্য করেছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামীম সরদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, গত বছর ১৯ ডিসেম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত যারা জন্মগ্রহণ করেছে, তারাই শুধু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। তবে ফলাফলে দেখা যায়, ২০১৫ ও ’১৬ সালে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও ভর্তি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ভর্তির এ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ভর্তির অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ৫৮ শিক্ষার্থীর অভিভাবক। এ ছাড়া মাউশি মহাপরিচালকের বরাবর বিধিবহির্ভূতভাবে এ ভর্তি বাতিলের একটি আবেদন করেন অভিভাবকরা।

রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট মাউশির মহাপরিচালককে অভিভাবকদের আবেদন নিষ্পত্তিসহ ভর্তির বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়।

অ্যাডভোকেট শামীম সরদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভিকারুননিসা স্কুলে ১৬৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম শ্রেণিতে বিধিবহির্ভূতভাবে ভর্তি করা হয়েছে এবং এ ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট এ ভর্তি বাতিল করে অপেক্ষমাণদের তালিকা থেকে ভর্তি নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ভিকারুননিসা স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।’

আদালতের নির্দেশনা পেয়ে গতকালই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর।

অধ্যক্ষ বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃক ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা (নিজেদের নির্ধারিত) অনুসরণ না করে ১ জানুয়ারি ২০১৭ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী (প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেরিত সংযুক্ত তালিকায় বর্ণিত) শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাটা ছিল বিধিবহির্ভূত।

এ অবস্থায় ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে বিধিবহির্ভূতভাবে ভর্তি হওয়া ২০১৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ১০ এবং ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণকারী ১৫৯ জনসহ ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাউশির চিঠি আমরা পেয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত