ঢাকাবাসীর কাছে বৃহস্পতিবার মানেই দুঃসহ যানজটে নাকাল হওয়া। সপ্তাহান্তের তাড়ায় রাস্তাঘাটে ভজঘট পাকিয়ে ফেলা। অথচ এই বৃহস্পতিতেই মাঠে "অনিয়মিত" জামাল ভুঁইয়ার বৃহস্পতি তুঙ্গে। এই বৃহস্পতিতে রাজধানীর দুই প্রান্তে জামাল থাকলেন সমানভাবে। আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের ক্লাব সোল ডি মায়োর মোহ ত্যাগ করে দেশে ফিরে জামাল যোগ দিলেন ধানমন্ডি জায়ান্ট আবাহনী লিমিটেডে। লিগের বাকি সময়টায় আকাশী-হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে ৩৩-এর মিডফিল্ডারকে। আবার এই বৃহস্পতিতেই মতিঝিলের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে জামালকে সযত্নে আগলে রাখলেন জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। এমনকি তিন মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পরও এই জামালের বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না স্প্যানিশ কোচ। তার চোখে "পেশাদার" জামাল মাঠে না খেললেও আছেন ভীষণ "ফিট"!
কাবরেরার মতো আবাহনীর কর্তারাও মজেছেন জামালে। নইলে গত দুই মৌসুম ফিট থাকাবস্থায়ও ৬০ মিনিটের বেশি খেলতে না পারা জামালকে কেন দলে ঠাঁই দিবেন! লিগের প্রথমপর্বে ১২ পয়েন্ট খুইয়ে টেবিলের তিনে থাকা আবাহনী দ্বিতীয়পর্বে ঘুঁড়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। সেটা করতে হলে জ্বলে উঠতে হবে ফুটবলারদের। সেই দলে জামালের সংযুক্তি তো দায়ের বোঝা বেড়ে যাওয়ার মতো ব্যপার। মাঠের পারফরম্যান্স যেমন-তেমন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণ আলোচিত জামাল। যা নন তারচেয়ে অনেক বড় করে নিজেকে প্রকাশে জুড়ি নেই তার। আর এ সবেই জামালে মজে আছেন কাবরেরা ও আবাহনীর কর্তারা।
সর্বশেষ কবে মাঠে জামালকে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে, তা নিয়ে হতে পারে আলোচনা। পারফরম্যান্স যেটাই হোক, আর্জেন্টিনার ভঙ্গুর তৃতীয় বিভাগে তিনি সোল ডি মায়োর হয়ে সর্বশেষ খেলেন ৩০ অক্টোবর। ক্লাব ফুটবলে সেটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। এরপর ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের হয়ে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন ৬১ মিনিট। এরপর থেকেই ঢাকা, ডেনমার্ক, আর্জেন্টিনা, সর্বশেষ ওমানে কাটিয়েছেন অবসর সময়।
ওমানে ১২দিন এক বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় আসেন জামাল। সরাসরি যান আবাহনী ক্লাবে। আর্জেন্টিনার ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কী নেই, জানতে চাইলে জামাল বলেন, 'ওদের এখন প্রাক-মৌসুম চলছে। এমনিতে ওদের সঙ্গে চুক্তি শেষ। এখন আইটিসি'র (আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র) অপেক্ষায় আছি। সেটা পেলেই আবাহনীর হয়ে খেলতে কোন বাধা থাকবে না।' সেটা হয়তো সময় মতোই পেয়ে যাবেন। তবে জামালের জাতীয় দলে খেলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। কাবরেরার কাছে বরাবরই পারফরম্যান্সই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার মূলশর্ত। জামালের ক্ষেত্রে সেটা বিবেচনায় নেননি স্প্যানিশ কোচ। তাই তো মার্চে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে যৌথ বাছাইয়ের দুই ম্যাচের প্রাথমিক দলে আছেন জামাল। কাবরেরার যুক্তি, 'জামাল ভূঁইয়া খেলার মধ্যে ছিল না সে যে দেশটিতে (আর্জেন্টিনা) খেলত, তাদের সিদ্ধান্তের কারণে। আমি খুব ভালোভাবে জানি যে, সে সোল ডি মায়োতে অনুশীলনের মধ্যে ছিল এবং তাদের হয়ে প্রীতি ম্যাচগুলো খেলেছে। জানি সে ফিট আছে। নিশ্চিতভাবেই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলার ঘাটতি থাকবে। তবে সেটা আর্জেন্টিনার লিগের পরিস্থিতির কারণে।' এরপর জামালের প্রতি অগাধ আস্থার কথা প্রকাশ করেন কোচ, 'আমি মনে করি, জামাল এখনও অধিনায়ক এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিতে পারে। এই তালিকায় তাকে রাখা নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় ছিল না। ম্যাচ টাইমের চেয়ে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আপনি কোন ধরনের অধিনায়ক। আপনি কিভাবে মাঠে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কিভাবে দলের সামনে উদাহরণ তৈরি করছেন, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। দলে তরুণ অনেক খেলোয়াড় আছে এবং আমি আগেও বলেছি, সে তাদের জন্য অনুকরণ করার মতো ভালো উদাহরণ।'
বৃহস্পতি তুঙ্গে বলেই নতুন ক্লাবে হাজিরা দিয়েই শনিবার জাতীয় দলের সঙ্গে সৌদির বিমান ধরবেন জামাল। সেখানে দুই সপ্তাহ হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার প্রভাবটা এই ক্যাম্পে কাটিয়ে উঠতে পারলে হয়তো অধিনায়ক হয়েই কুয়েত যাবেন জামাল।
