কোলোরেক্টাল ক্যানসার বৃহদন্ত্র, কোলন বা মলদ্বার অথবা উভয়েই হতে পারে। কোলন হচ্ছে অন্ত্র, আমাদের শরীরের খাদ্য পরিপাকের যে নালিটি রয়েছে তাকে কোলন বা বৃহদন্ত্র বলে। আর তারও নিচের যেই অংশটা যেখানে মল জমা থাকে সেটাকে বলা হয় রেক্টাম (Rectum)। এই অংশের ক্যানসারকে বলা হয় কোলোরেক্টাল ক্যানসার। এই ক্যানসার শুরুতে ধরা না পড়লে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
কেন হয় : কোলোরেক্টাল ক্যানসার অনেকটা বংশগত। পরিবারের কারও ক্যানসার
থাকলে বাকি সদস্যদেরও হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি বলা হচ্ছে সেটি হচ্ছে কোলন এ পলিপ (Colon Polyp)। কারও যদি কোলনে পলিপ হয়, সেটি পরে ক্যানসারে রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে খুব বেশি মাত্রায়, তাহলে ঝুঁকি রয়েছে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা মানে হলো, বেশি সময় জীবাণুগুলো শরীরের সংস্পর্শে থাকে।
ঝুঁকি : কোলোরেক্টাল ক্যানসার বেশি বয়সী মানুষদের মধ্যে দেখা যায়। আগেই কোলন বা অন্ত্রের কোনো অংশে ক্যানসার বা পলিপ হয়ে থাকলে পরবর্তী সময় আরও বাড়ে। অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ যেমন সংক্রমণ, আলসার, অন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি চিকিৎসা না হলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধূমপায়ীরা কোলোরেক্টাল ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। খাবারে আমিষ আধিক্য থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। দীর্ঘসময় কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়াবেটিস রোগী বা যাদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে, তাদেরও ঝুঁকি রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন যাদের তাদের কোলন ক্যানসার হতে পারে।
লক্ষণ : নিয়মিত মলত্যাগ না হওয়া। কমপক্ষে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য বা পর্যায়ক্রমে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা। পায়ুপথে বা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। পেটে অস্বস্তিভাব যেমন গ্যাস, পেট ফুলে থাকা, পেট মোচড়ানো, পেট ফাঁপা ভাব ইত্যাদি থাকা। ক্রমে ওজন কমে যাওয়া। রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়া। মলত্যাগের পরও পেট পুরোপুরি খালি হয়নি এমন বোধ হওয়া। ক্যানসার কোলন থেকে ছড়িয়ে শরীরের অন্য কোথাও গেলে যেমন লিভারে গেলে ব্যথা হতে পারে। ফুসফুসে গেলে কাশি হতে পারে। এমনকি হাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে ক্যানসার কোষ।
চিকিৎসা : শুরুতেই ধরা পড়লে এই রোগের যথাযথ চিকিৎসা করা সম্ভব। কোলোরেক্টাল ক্যানসার নিরাময়ে সার্জারি, রেডিয়েশন, কেমোথেরাপির যে কোনোটি বা কয়েকটি একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়। কোলোরেক্টাল ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন অ্যান্টিবডি ব্যবহার, জিনথেরাপি, টিউমারের রক্ত চলাচলে বাধা দেওয়া এ রকম নানা পদ্ধতির মাধ্যমে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসা হচ্ছে।
